রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল সংক্রান্ত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ গত বছরের ১ জুন এ রায় দেয়। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর রায় প্রকাশিত হয়েছে।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতের করা আপিল সর্বসম্মতিতে মঞ্জুর এবং লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) নিষ্পত্তি করে এ রায় দেওয়া হয়।
এর আগে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট রায় দেয় হাইকোর্টের তিন সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ।
রায়ে আপিল বিভাগ বলেছে, রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে, তা ন্যায়সংগত হয়নি। এ মত অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় ২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া রায় ও আদেশ বাতিল করা হলো।
২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ফুল কোর্ট সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ‘দাঁড়িপাল্লা’ ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে একমাত্র সুপ্রিম কোর্টের মনোগ্রামে ব্যবহৃত হবে। অন্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতীক হিসেবে বা কোনো নির্বাচনে প্রার্থীর প্রতীক হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’ বরাদ্দ প্রদান না করা এবং যদি বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে ওই বরাদ্দ বাতিলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবসহসহ সংশ্লিষ্ট সবার বরাবর চিঠি পাঠানোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়।
এ অনুসারে কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীকে প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা বরাদ্দ না দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এরপর নির্বাচন কমিশনের প্রতীক তালিকা থেকে দাঁড়িপাল্লা বাদ পড়ে।
ফুল কোর্ট সভার ওই সিদ্ধান্ত বাতিল চেয়ে জামায়াত গত বছরের ১২ মে আপিল বিভাগে আবেদন করে। এ বিষয়ে আপিল বিভাগ বলেছে, কোনো পর্যবেক্ষণ ছাড়াই প্রত্যাহার আবেদন মঞ্জুর করা হলো। এরপর রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন ও দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ফিরে পায় জামায়াত। ২৪ জুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।


