জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছয়টি নতুন আবাসিক হল নির্মাণে ১৬ কোটি টাকা গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নবনির্মিত হলগুলোতে ফাটল দেখা দেওয়ায় নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর একনেক সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য এক হাজার ৪৪৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে ছেলেদের জন্য তিনটি ও মেয়েদের জন্য তিনটি মোট ছয়টি দশতলা আবাসিক হল নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি হলের ধারণক্ষমতা এক হাজার শিক্ষার্থী।
অনুমোদিত ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) অনুযায়ী, সবগুলো হলই ‘পাইল ফাউন্ডেশনে’ নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু প্রকৃত নির্মাণকাজে পাইলের পরিবর্তে ‘ম্যাট ফাউন্ডেশন’ ব্যবহার করা হয়েছে।
ডিপিপি অনুযায়ী, প্রতিটি হলের ভিত্তির জন্য নির্ধারিত এলাকা দুই হাজার ২২৫ বর্গমিটার। সরকারি নির্ধারিত খরচসংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী, পাইল ফাউন্ডেশনের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারের খরচ হয় ৪০ হাজার ৫৩৩ টাকা, আর ম্যাট ফাউন্ডেশনে ২৮ হাজার ৭৫২ টাকা।
অর্থাৎ, প্রতিটি হলে পাইল ফাউন্ডেশন ব্যবহার করলে খরচ হওয়ার কথা ছিল নয় কোটি এক লাখ টাকা। যেখানে ম্যাট ফাউন্ডেশনে খরচ হয় ছয় কোটি ৪০ লাখ টাকা।
অর্থাৎ প্রতিটি হলের ভিত্তি নির্মাণে প্রায় দুই কোটি ৬২ লাখ টাকা কম খরচ হয়েছে। কিন্তু এই টাকার হিসাব প্রকল্পের চুক্তিপত্র বা কাজের তালিকায় পাওয়া যায়নি। এমনকি অতিরিক্ত টাকা প্রশাসনের কাছে ফিরিয়েও দেওয়া হয়নি।
তবে প্রকল্প অফিসের দাবি, পুরো বরাদ্দই খরচ হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘মাটির ধরন অনুযায়ী, কোন ধরনের ফাউন্ডেশন প্রয়োজন- সেটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মাটি পরীক্ষা করে জানিয়েছে। মাটি পরীক্ষার রিপোর্টেই ম্যাট ফাউন্ডেশন যথেষ্ট বলা হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কাজের সব বিল এখনো যাচাই-বাছাই করা হয়নি। সব উপখাতের পাওনা এখনও পরিশোধ না হওয়ায় কোন কাজ হয়েছে বা হয়নি তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। মনিটরিং কমিটি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে সুপারিশ দিচ্ছে।’


