আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পাঁচ দফা দাবি আদায়ের জন্য তৃতীয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির দাবি, জুলাই সনদে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের আয়োজন করা হোক।
রোববার দলের এক জরুরি বৈঠকে দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এসব দাবি উত্থাপন করেন।
তিনি বলেন, ‘২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা যে দাবি তুলেছিল, তার আইনগত ও রাজনৈতিক স্বীকৃতির জন্য আজ আমাদের রাজপথে লড়াই করতে হচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ছাত্র-জনতার রক্তের ঋণ শোধ করতে রাজনৈতিক আন্দোলন চালিয়ে যাবে।’
গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমরা দুই দফা কর্মসূচি পালন করেছি। দ্বিতীয় দফায় ১ অক্টোবর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী গণসংযোগ এবং ৯ অক্টোবর বিভাগীয় শহরে গণমিছিল আয়োজন করা হয়। একই সময়ে সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্বারকলিপি প্রদান করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের যৌক্তিক দাবির প্রতি কোনো ইতিবাচক সংবেদনশীলতা দেখা না দেওয়ায় আমরা তৃতীয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হচ্ছি।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৫ দফা দাবি হলো—১. জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের মাধ্যমে গণভোট প্রদান করে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন। ২. আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতিকে জুলাই সনদের অন্তর্ভুক্ত করে গণভোট প্রদান। ৩. অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা। ৪. ফ্যাসিস্ট সরকারের সকল জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা। ৫. স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
এ দাবির পক্ষে ১৪ অক্টোবর ঢাকাসহ দেশের সকল বিভাগীয় শহরে সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মানববন্ধন এবং ১৫ অক্টোবর সারা দেশের সকল জেলায় একই সময়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দসহ সারা দেশের সর্বস্তরের মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেবেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির যুগ্মমহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, মাওলানা ইমতেয়াজ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক, যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ, আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ কাশফি, নাছির উদ্দিন, ডাক্তার শহিদুল ইসলাম, মাওলানা আরিফুল ইসলাম, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরি ও মুফতি হেমায়েতুল্লাহ প্রমুখ।


