জোটবদ্ধ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে বিএনপির আপত্তি আমলে নেয়নি নির্বাচন কমিশন। জোটভুক্ত নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে নিজ দলের প্রতীক নিয়েই নির্বাচন করতে হবে। এমন ধারা যুক্ত করে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ(আরপিও) বা নির্বাচনী আইনের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
সোমবার নির্বাচন কমিশন এই গেজেট প্রকাশ করে। এরআগে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব করা আরপিও’র সংশোধনী অনুমোদন করে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। এর পরপরই বিএনপি এনিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে আপত্তি জানায়। তবে উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত সংশোধনী বহাল রাখার দাবি জানায় জামায়াতে ইসলামী। একজন উপদেষ্টা সংশোধিত এই ধারাটি বাদ দিতে বিএনপির একজন নেতাকে আশ্বাস দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করে জামায়াত। অবশেষে উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন করা সংশোধিত আরপিওর গেজেট প্রকাশ করা হয়।
আরপিও’র সর্বশেষ এই সংশোধনীর আগে জোটের প্রার্থীরা জোটভুক্ত নিবন্ধিত যে কোন দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারতেন। সংশোধিত আরপিও অনুসারে বিএনপির সাথে জোটভুক্ত নিবন্ধিত কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবেন না।
সংশোধিত এই আরপিও অনুসারে আদালতে পলাতক ঘোষিত কোন ব্যক্তি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। আরপিওতে প্রথমবারের মত এই ধারা যুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগও কঠিন করে দিয়েছে সংশোধিত আরপিও। এখন থেকে কোন আসনে মাত্র একজন প্রার্থী থাকলে সেই প্রার্থী ও ‘না’ ভোটের মধ্যে নির্বাচন হবে। এক্ষেত্রে ‘না’ ভোট জয়ী হলে সেই আসনে নতুন তফসিল ঘোষণা করে পুনরায় নির্বাচন হবে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনেও একজন প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।
এছাড়া নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীকেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী হিসাবে যোগ করা হয়েছে। এরআগে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় শুধু পুলিশ, র্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, আনসার, ব্যাটালিয়ান আনসার, বিজিবি এবং কোস্টগার্ডকে বোঝানো হতো।


