জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের গভীর রাতে ডেকে নিয়ে ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে বিভাগের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে ১২ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তরাও প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে লিখিতভাবে ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
শুক্রবার দিনগত রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আটক শিক্ষার্থীরা সবাই ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের। তারা হলেন সুভাশীষ রায়, নাছিম উদ্দিন মজুমদার, আবু আবতাহী অনিক, নাইমুল হাসান, আব্দুল্লাহ মাহদী, ইসফাক হাদী সিক্ত, মো. রায়হান খান, কাজী শাহ জামসেদ আলম নাবিল, সাইফুল্লাহ মানসুর আনান, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, শ্রী কার্তিক চন্দ্র রায় এবং নাইম আহমেদ সজিব।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১১টার দিকে ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ফোন করে প্রথমে মহুয়া মঞ্চে এবং পরে স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে যেতে বলা হয়। সেখানে কিছু সময় অপেক্ষা করানোর পর তাদের মাঠসংলগ্ন নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরিচয়পর্ব ও শৃঙ্খলা শেখানোর কথা বলে তাদের অভিভাবকদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা হয়, কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় এবং বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. এহসানুল হক বলেন, ‘আমাদের বাবা-মাকে নিয়ে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলা হয়। কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় এবং পরিচয়ের নামে অপমানজনক আচরণ করা হয়। পরে জাকসুর নেতা মোহাম্মদ আলী চিশতী, হুসনে মোবারক ও প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে এসে আমাদের উদ্ধার করে।’
একই ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী রাজ খান দাবি করেন, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও একাধিকবার ‘ম্যানার’ শেখানোর অজুহাতে গভীর রাত পর্যন্ত মাঠে নিয়ে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্যবিষয়ক সম্পাদক এবং অ্যান্টি-র্যাগিং সেলের সদস্য হুসনে মোবারক বলেন, রাত ২টার দিকে খবর পেয়ে তিনি ও জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী ঘটনাস্থলে যান। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়। পরে সহকারী প্রক্টর ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অভিযুক্তদের নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তারা ঘটনার কথা স্বীকার করেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে র্যাগিং প্রতিরোধে সবাই যখন সচেতন, তখন এমন ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জাকসু কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।
প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে দেওয়া লিখিত স্বীকারোক্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের ১৩ জন শিক্ষার্থীকে ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ডেকে নিয়ে র্যাগিং করেছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডির সভায় উপস্থাপন করা হবে এবং সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


