ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে আগুনে স্ত্রী-সন্তান ও শ্বশুরসহ নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের মরদেহ দেশে ফিরবে শুক্রবার।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কলকাতা থেকে দেবাশীষের স্বজন ফিরোজ হাসান মিঠু এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার দুপুরে নিহতদের মরদেহ কুষ্টিয়ায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বুধবার ভোরে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে আগুনে প্রাণ হারান দেবাশীষ দত্ত (৩৭), তার স্ত্রী আফসানা শারমিন (২৫), তাদের সাড়ে ৩ বছর বয়সী ছেলে শর্ণশিষ দত্ত এবং শ্বশুর কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার মো. আকরাম আলী (৬৪)।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে আগামী শুক্রবার দুপুরে নিহতদের মরদেহ কুষ্টিয়ায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
মরদেহ কুষ্টিয়ায় পৌঁছানোর পর ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পৃথকভাবে শেষকৃত্য ও দাফন করা হবে। দেবাশীষ দত্ত ও তার শিশুপুত্র স্বর্ণশীষের শেষকৃত্য সনাতন ধর্মীয় রীতিতে কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে সম্পন্ন হবে। এরই মধ্যে সেখানে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অপরদিকে আফসানা শারমিন ও তার বাবা আকরাম আলীর দাফন ইসলামি রীতিতে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় ১১ বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন দেবাশীষ ও আফসানা। দেবাশীষ ও আফসানা দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে। ৮ বছর বয়সী মেয়ে মহিমা দত্ত ওরফে পাখিকে কুষ্টিয়ায় দেবাশীষের মা-বাবার কাছে রেখে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন তারা।
আফসানার বড় বোন আফরিন ফারজানা মেঘলা বলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকার সময় গুরুতর অসুস্থ আফসানা তাকে বলেছিলেন, ‘আমি যদি মারা যাই, তাহলে আমাকে কবর দিও।’
এদিকে ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতিকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত। স্বজনদের কাছে তিনি বলেন, ‘আমার পরিবার থেকে ছেলে, ছেলের বউ আর নাতি চলে গেল…।’
পুত্রবধূ আফসানা শারমিনের দাফন প্রসঙ্গে দিলীপ দত্ত বলেন, ‘আফসানার পরিবার যেভাবে করতে চান, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’
ছেলের মৃত্যুতে শোকে পাথর হয়ে গেছেন মা স্বপ্না দত্তও। বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, ‘বাবা, কোথায় চলে গেলি বাবারে! তুই একদিন জিনিস কিনবি বলে থাকলি বাবা। আজ জিনিস নিয়ে কী হবে বাবা! জিনিসের তো আর দরকার নাই… তোমারে পাইলাম না।’ ছেলের শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি।
নিহত দেবাশিস দত্ত কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইন-এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি এবং কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গত ৩ আগস্ট স্ত্রী, ছেলে ও শ্বশুরকে নিয়ে ভারতে যান দেবাশিস দত্ত। এরপর কলকাতায় গিয়ে একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন তারা। বুধবার ভোররাতে ওই হোটেলে আগুন লাগে। সেখানেই স্ত্রী-সন্তানসহ প্রাণ হারান তিনি।


