জাকারিয়া হত্যা: কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদসহ গ্রেপ্তার ২

জাকারিয়া হত্যা: কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদসহ গ্রেপ্তার ২
জাকারিয়া হত্য মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি। ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

সাতক্ষীরার চাঞ্চল্যকর জাকারিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদ হাসানসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের শুইলপুর সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা ও ডিবি পুলিশের একটি দল।

গ্রেপ্তার নাহিদ হাসান (২৬) সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা পশ্চিমপাড়া মানিকতলা এলাকার বাসিন্দা। তিনিই কলেজ ছাত্র জাকারিয়া খান হত্যা মামলার প্রধান আসামী এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। গ্রেপ্তার অপরজন হলেন, একই এলাকার বাসিন্দা অমিত হাসান শিপন (৩০)।

পুলিশ জানিয়েছে, আসামিরা সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ  আভিযানিক একটি দল মঙ্গলবার ভোরে কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের শুইলপুর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে জাকারিয়া হত্যা মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ আরো জানিয়েছে, এর আগে গত শুক্রবার গভীর রাতে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সামনে রবিউলের চায়ের দোকানে কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদসহ তার বাহিনীর সদস্যরা চা খেতে আসে। এ সময় তাদেরকে দ্রুত চা দেওয়ার কথা বলে রবিউলকে তারা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। ওই মূহুর্তে রবিউলের প্রতিবেশী ভাইপো বাপ্পী হাসান এর প্রতিবাদ করলে তারা বাপ্পীকে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এ সময় শহরের কাটিয়া এলাকার আব্দুল গফুর খানের ছেলে কলেজ ছাত্র জাকারিয়া খান (১৯) ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় বাপ্পীকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদ তার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে জাকারিয়ার বুকের বামপাশে ছুরিকাঘাতে তাকে গুরুতর জখম করে। পরে চা দোকানী রবিউলসহ স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ও পরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাকারিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন

এ ঘটনার পরদিন শনিবার রাতে নিহত জাকারিয়ার ভাই মো. শাহারিয়ার খান বাদী হয়ে কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদকে প্রধান আসামি করে মোট ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ছয় থেকে সাত জনের নামে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওই দিন ভোরে এ মামলার ২ নম্বর আসামি সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা পশ্চিমপাড়া মানিকতলা এলাকার বাসিন্দা মোহিত হাসান বনিকে (২০) গ্রেপ্তার করে।

এ মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন, শহরের ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা মো. আরিজুল ইসলাম (২৮), আবুল হোসেন ওরফে বড় খোকার ছেলে ছোট ময়না (২৭), মো. জুয়েল (২৪), মো. সাগর (২৩), মো. রনি (৩০), মো. সামি (২৪), মো. নাঈম (২২), রাশিদুর জামান রাশেদ (৩০), মো. হুজাইফা (২০) ও মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ (২৮)।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুর রহমান জানান, কলেজ ছাত্র জাকারিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি নাহিদ হাসানসহ গ্রেপ্তার বাকি দুই আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এখন পর্যন্ত এ মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে বকচরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. রমজান আলীকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা চেষ্টার মামলা, শহরের ‘ফুচকা বাংলা’র পরিচালক আজিজুল ইসলামকে ছুরি দিয়ে জখম করে হত্যা চেষ্টার মামলা, বাঁকাল ইসলামপুর এলাকার এক যুবককে ছুরিকাঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে ছয়টির বেশি মামলা রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad