এক গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের দুটি গোলের ওপর ভর করে দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে আলজেরিয়া। বিশ্বকাপ ফুটবলের ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে জর্ডানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে অধিকাংশ সময় বল আলজেরিয়ার পায়ে থাকলেও ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় জর্ডান। প্রথমার্ধে ৭৪ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে বারবার প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আক্রমণ চালায় আলজেরিয়া। তবে জর্ডান কৌশল পরিবর্তন করে সরাসরি আক্রমণ এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকের (পাল্টা আক্রমণ) মাধ্যমে আলজেরিয়ার রক্ষণে ভীতি ছড়ায়।
ম্যাচের ৩৬ মিনিটে মুসা আল-তামারির পাস থেকে গোল করে জর্ডানকে এগিয়ে নেন আল-রাশদান। প্রথমার্ধে জর্ডান মাত্র ১২২টি পাস খেললেও তা থেকে ছয়টি শট নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। এমনকি বল দখলে অনেক পিছিয়ে থাকলেও আলজেরিয়ার ডি-বক্সের ভেতর বল স্পর্শ করার দিক থেকে তারা প্রায় সমান অবস্থানে ছিল।
অন্য দিকে আলজেরিয়া মাঝমাঠ থেকে নিখুঁতভাবে বল বাড়িয়ে খেললেও প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের সামনে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলছিল। রিয়াদ মাহরেজ আক্রমণের বড় অংশজুড়ে এককভাবে ভীতি ছড়ালেও জর্ডানের তীব্র রক্ষণভাগের সামনে আমিন গুইরি এবং ফারেস শাইবিরা তেমন কোনো জায়গা পাচ্ছিলেন না।
তবে বিরতির পর পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ আক্রমণভাগে পরিবর্তন এনে মাঠে নামান নাধির বেনবুয়ালি এবং নাবিল বেনতালেবকে। এই পরিবর্তনের ফলে জর্ডানের ডি-বক্সের ওপর চাপ বাড়তে থাকে এবং আলজেরিয়ার খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষকে ভুল করতে বাধ্য করেন।
ম্যাচের ৬৯ মিনিটে বেনবুয়ালি গোল করে আলজেরিয়াকে সমতায় ফেরান। রিয়াদ মাহরেজের নেওয়া একটি কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বলে লাফিয়ে উঠে দারুণ এক হেডে জর্ডানের জালের দূরবর্তী কোণে বল জড়ান বদলি হিসেবে নামা এই ফরোয়ার্ড।
সমতায় ফেরার পরও জর্ডান কাউন্টার অ্যাটাকে আলজেরিয়াকে পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল। মাহমুদ আল-মার্দির একটি নিচু শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান। পাশাপাশি মুসা আল-তামারি তার গতিময় দৌড়ে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে তটস্থ করে রাখেন।
তবে আলজেরিয়া প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে অনবরত আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে এবং অবশেষে ৮৪ মিনিটে জর্ডানের প্রতিরোধ ভাঙতে সক্ষম হয়। আরেকটি কর্নার কিক থেকে জর্ডানের বক্সে জটলার সৃষ্টি হলে সবচেয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বল জালে পাঠান আমিন গুইরি। অফসাইডের সুক্ষ্ম মারপ্যাঁচ থাকায় ভিএআর পরীক্ষার পর রেফারি গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।
পুরো ম্যাচে জর্ডান মাত্র একটি কর্নার আদায় করতে পেরেছিল, যেখানে আলজেরিয়া পায় ১০টি কর্নার। আর এই কর্নার থেকেই তারা দুটি গোল তুলে নেয়। শেষ পর্যন্ত আলজেরিয়ার লাগাতার আক্রমণই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
এই জয়ের ফলে ২০১৪ সালের পর বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল আলজেরিয়া। একই সঙ্গে এই তিন পয়েন্ট তাদের নকআউট পর্বে যাওয়ার আশাও বাঁচিয়ে রাখল।


