দেশের ঐতিহ্যবাহী আব্দুল জব্বারের বলী খেলার ১১৬তম আসর হতে যাচ্ছে আগামী ২৫ এপ্রিল। চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে এজন্য চলছে চুড়ান্ত প্রস্তুতি। বিশেষ এই আয়োজনে স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নামকরা বলী তথা কুস্তিগীররা অংশ নেবেন। এবারের আসরের জন্য ইতোমধ্যে ১৫০ জন বলী নিবন্ধন করেছেন বলে জানা গেছে।

জব্বারের বলী খেলা উপলক্ষে লালদীঘি ময়দানসহ আশেপাশে ২৪ এপ্রিল শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। নগরীর কোতোয়ালী থানার মোড় থেকে আন্দরকিল্লা মোড়, পশ্চিমে সিনেমা প্যালেস মোড় ও পূর্বে জেল রোডে (বদরপাতি) বসবে নানান স্টল। শিশুদের পুতুল ও খেলনা থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্য পাওয়া যাবে মেলায়।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর লালদীঘি পাড়ের সিটি কর্পোরেশন লাইব্রেরিতে সংবাদ সম্মেলনে বলী খেলার প্রস্তুতি তুলে ধরা হয়। বলীখেলা আয়োজক কমিটি ২০২৫-এর সদস্য সচিব ও আবদুল জব্বার সওদাগরের নাতি শওকত আনোয়ার বাদল বলেন, ‘বলী খেলা ও বৈশাখী মেলা সু্ষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও মেলা কমিটি নানান উদ্যোগ নিয়েছে। সবার অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় আমরা ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারবো আশা রাখি।’

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বাংলার যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি তাদের শারীরিকভাবে তৈরি করতে ১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে বলী খেলার প্রচলন হয়। চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়া এই আয়োজনের প্রবর্তক শহরের একসময়ের বদরপাতি এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার সওদাগর। তারই নামানুসারে এটি পরিচিতি পেয়েছে ‘জব্বারের বলী খেলা’ হিসেবে।
এবারের বলী খেলায় পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের চট্টগ্রাম সেন্ট্রাল রিজিয়নের রিজিওনাল হেড মোরশেদ আহমেদ, চট্টগ্রাম বিজনেস সার্কেলের মার্কেট কমিউনিকেশন হেড মো. আব্দুল্লাহ আল নূরসহ বলী খেলার আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ।


