নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানিতে এসে ফেনী-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু আইনজীবীদের উদ্দেশে ‘ব্লাডি সিটিজেন’ মন্তব্য করায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ।
শনিবার নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ।
তিনি বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে অনেকেই নির্বাচন এলেই নানা রূপে দেশে ফেরেন। কেউ জিতলে নাগরিকত্ব রাখেন, না জিতলে আবার বিদেশে ফিরে যান। ইসির শুনানিতে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে আইনজীবীরা যখন একাডেমিক পরিবেশে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করছিলেন, তখন শুনানি শেষে আব্দুল আউয়াল মিন্টু এনসিপির আইনজীবী ও নেতা জহিরুল ইসলাম মুসার দিকে তেড়ে গিয়ে তাকে ‘ব্লাডি সিটিজেন’ বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, শুনানিকক্ষে একজন প্রার্থী প্রকাশ্যে আইনজীবীদের প্রতি মৌখিক নিপীড়ন চালিয়েছেন। কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, যদি কমিশনের ভেতরেই প্রার্থীরা আইনজীবীদের দিকে তেড়ে আসে, বাইরে গিয়ে তারা কী করবে–এ প্রশ্ন থেকেই যায়।
তিনি আরও বলেন, যারা এলিটিসিজম দেখাতে দেশে আসেন, তাদের উচিত ঘরে সেই মানসিকতা রেখে জনগণের সামনে আসা। জনগণকে ‘ব্লাডি সিটিজেন’ বলে আবার সেই জনগণের কাছেই ভোট চাইতে যাওয়ার প্রবণতাকে তিনি দ্বিচারিতা হিসেবে উল্লেখ করেন। হাসনাতের ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পরের বাংলাদেশে রাজনৈতিক এলিটিসিজমের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই চলছে এবং এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এনসিপি নেতা অভিযোগ করেন, যারা বিদেশে সম্পদ পাচার করেন, বিদেশে বসবাস করেন এবং রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক সুবিধার জন্য ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন, তারাই নির্বাচনের সময় হঠাৎ জনগণের কাছে গিয়ে নিজেদের সাধারণ মানুষ হিসেবে তুলে ধরতে চান।
তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিক ও ভোটারকে ‘ব্লাডি সিটিজেন’ বলা মানে তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা। এ কারণে কমিশনের কাছে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে সতর্ক করার দাবি জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, নির্বাচন কমিশনের সামনে একজন প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটলেও কমিশন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি। কমিশন ঘটনাকে হট্টগোল হিসেবে দেখেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের সহিংসতা ও ভয়ভীতি যদি কঠোরভাবে মোকাবিলা না করা হয়, তাহলে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের রক্ত বৃথা যাবে।
তিনি আরও বলেন, জহিরুল ইসলাম মুসার প্রতি যে আচরণ করা হয়েছে, তাতে সব পক্ষের আইনজীবীরাই আহত হয়েছেন এবং তারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই রাজনৈতিক এলিটিসিজমের অবসান ঘটাতে না পারলে জনগণই শেষ পর্যন্ত এমন রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


