ছুরিকাঘাতের পর আগুন, শরীয়তপুরের খোকন দাসের মৃত্যু

ছুরিকাঘাতের পর আগুন, শরীয়তপুরের খোকন দাসের মৃত্যু
খোকন চন্দ্র দাস | ফাইল ছবি
Advertisement
Advertisement

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় ছুরিকাঘাতের পর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস (৫০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

শনিবার সকাল ৮টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তিনি মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সহকারী শাওন বিন রহমান।

এর আগে, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই বাজার এলাকায় দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন খোকন দাস।

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) তানভীর হোসেন জানান, হামলাকারীরা প্রথমে তাকে ছুরিকাঘাত করে। পরে তিনি হামলাকারীদের চিনে ফেলায় তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

খোকন দাস তিলই এলাকার পরেশ চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে ওষুধের দোকান ও বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা করতেন।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, খোকন দাসের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার ক্ষতস্থানে অস্ত্রোপচার করা হয়।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন দিন পর শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে খোকন দাসের বাবা বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে ডামুড্যা থানায় মামলা করেন।

মামলার আসামিরা হলেন কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭), সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২১) এবং শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদার (২৫)।

তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর হোসেন বলেন, ‘স্বজনদের কাছ থেকে খোকন দাসের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরেছি। এরপরও আমরা বিষয়টি খোঁজখবর নিচ্ছি।’

খোকন দাসের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার স্বজন ও এলাকাবাসী। একই দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শরীয়তপুর জেলা শাখা।

সংগঠনের জেলা সভাপতি অমিত ঘটক চৌধুরী বলেন, ‘খোকন দাসের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তাকে বাঁচাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad