ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দর্শন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলের ওপর ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ‘সন্ত্রাসবিরোধী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা’।
সোমবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (একাংশ) ঢাবি শাখার সদস্য সচিব অদিতি ইসলাম বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই প্রমাণ ছাড়াই তার ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ছাত্রশক্তি’ নামের সংগঠনের কর্মীরা একজনকে পাঁচ দফায় পিটিয়েছে, শিকল দিয়ে মারধর করেছে এবং তার আঙুল থেঁতলে দিয়েছে। এমন অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী রাফিউর জামান জুয়েল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য। কিন্তু এখন জুলাইয়ের দোহাই দিয়ে যে ‘মব কালচার’ তৈরি করা হচ্ছে, তা ওই আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থী। এভাবে জুলাইয়ের সামাজিক চুক্তি ভঙ্গ করে ছাত্র রাজনীতিকে ভঙ্গুর করে তোলা হচ্ছে, যা ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু মুজাহিদ আকাশ বলেন, কেউ যদি অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থেকেও থাকে কিংবা কোনো অপরাধ করে থাকে, তাহলে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। কিন্তু মব তৈরি করে কাউকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা বা হত্যা করা কোনো সমাধান হতে পারে না।
তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পিটিয়ে হত্যা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তোফাজ্জল হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ টেনে এই ধরনের সহিংস সংস্কৃতির নিন্দা জানান।


