এক সময় ‘নওগাঁর কণ্ঠস্বর’ হিসেবে পরিচিত বরেন্দ্র রেডিও ৯৯.২ এফএম দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বন্ধ হয়ে আছে। বজ্রপাতে প্রধান ট্রান্সমিটারটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে বরেন্দ্র অঞ্চলের জনপ্রিয় এই কমিউনিটি রেডিওটির প্রচার থেমে যায়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রিয় স্টেশনের কণ্ঠ শোনার অপেক্ষায় দিন গুনছেন স্থানীয় শ্রোতারা।
২০১২ সালের ৮ মার্চ নওগাঁ শহর থেকে ‘নওগাঁর কথা বলে’ স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বরেন্দ্র রেডিও। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা ও স্থানীয় সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনার জন্য গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষের কাছে এক জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। স্টেশনের ৩৬ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে নওগাঁর আটটি উপজেলা ছাড়াও বগুড়ার আদমদীঘি, রাজশাহীর বাগমারা এবং জয়পুরহাটের আক্কেলপুর এলাকার মানুষ নিয়মিত এই রেডিও শুনতেন।
প্রতিদিন দুপুর ৩টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত টানা নয় ঘণ্টার সম্প্রচারে প্রায় ১২ লাখ নিয়মিত শ্রোতা যুক্ত থাকতেন। সপ্তাহে মোট ৪২টি অনুষ্ঠান প্রচারিত হতো, যার বেশিরভাগই তৈরি হতো স্থানীয় সাধারণ মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণে। ফোন-ইন, এসএমএস এবং নাগরিক সাংবাদিকতার মাধ্যমে তারা তাদের কথা বলার সুযোগ পেতেন।
শ্রোতা ও স্বেচ্ছাসেবকদের মতে, নারীর অধিকার রক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সরকারি সেবা প্রাপ্তি বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে এই রেডিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বরেন্দ্র রেডিও ইউনিসেফ মিনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড এবং জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট (নিমকো) মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডসহ বেশ কিছু পুরস্কারও অর্জন করেছিল।
দুর্ভাগ্যের বিষয়, ২০১৯ সালের ১৪ এপ্রিল বজ্রপাতে স্টেশনের প্রধান ট্রান্সমিটারটি বিকল হয়ে যায়। এরপর থেকে নিয়মিত সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। মাঝখানে ফেসবুক এবং ইউটিউবের মাধ্যমে কিছু কার্যক্রম চললেও উদ্যোগের অভাব ও আর্থিক সংকটে পরবর্তীতে সেগুলোও স্থিমিত হয়ে পড়ে।
নাজমুল নামের একজন শ্রোতা আক্ষেপ করে বলেন, ‘রেডিওটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা মনে করছি যেন আমাদের নিজেদের কণ্ঠস্বর হারিয়ে ফেলেছি। এটি কি এখন কেবল স্মৃতি হয়েই থাকবে?’
রাইসা খাতুন ও মিজানুর রহমান নামের আরও দুই শ্রোতা জানান, বছরের পর বছর স্টুডিওটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। অথচ মানুষ এখনো আশা করে আছে যে কোনো একদিন রেডিওটি আবার সচল হবে।
এ বিষয়ে বরেন্দ্র রেডিওর স্টেশন ম্যানেজার সুব্রত সরকার জানান, মূলত আর্থিক সংকট এবং ব্যবস্থাপনাগত সমস্যার কারণেই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কবে নাগাদ এটি আবার চালু হবে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে মালিকপক্ষ ভবিষ্যতে এটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে পারেন।


