চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় আঙ্গুর চাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা আশরাফুল ইসলাম লাল। ২০২৪ সালে মাত্র তিন বিঘা জমিতে আঙ্গুর চাষ শুরু করলেও বর্তমানে তার বাগানের পরিধি বেড়ে ২০ বিঘায় দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সাত বিঘা জমি জুড়ে রয়েছে আঙ্গুর বাগান।
উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের হাসাদহ তালপুকুর মাঠে গড়ে ওঠা এই বাগানে এখন নিয়মিত আঙ্গুর সংগ্রহ চলছে। প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ ক্যারেট আঙ্গুর উৎপাদন হচ্ছে।

মান ভালো হওয়ায় জেলার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকে আঙ্গুর সংগ্রহ করছেন। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আঙ্গুর ২০০ থেকে ২৩০ টাকায় এবং খুচরা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
উদ্যোক্তা লাল জানান, এই বাগানে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক দৈনিক চুক্তিতে এবং আরও ১৫ জন মাসিক ভিত্তিতে কাজ করছেন। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে।
ঝিনাইদহ থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী আবুল কাশেম জানান, আমদানিকৃত আঙ্গুরের মতো মান হওয়ায় তিনি এখান থেকে নিয়মিত ফল কিনছেন।

বাগানের সফলতা দেখে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ বাড়ছে। কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল লতিফ জানান, লালের বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি দেড় হাজার চারা কিনে নিজের বাগান গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
শুধু চাষি নয়, প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থীও বাগানটি দেখতে ভিড় করছেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘আশরাফুল ইসলাম লালের এই সফলতা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। আধুনিক পদ্ধতিতে ফল চাষের এই উদ্যোগ এলাকায় প্রশংসিত হচ্ছে। কৃষি বিভাগ থেকে তাকে নিয়মিত সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।’


