ডাকসু ও জাকসু নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্নের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পদ্ধতি ও এর স্বচ্ছতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে সংশয়। আস্থার এই ঘাটতি মেটাতে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গণনা ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’ প্যানেল।
সোমবার দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিনের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন প্যানেলের প্রার্থীরা। স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসে নিরাপত্তার সঙ্গে ব্যালট ছাপানো, প্রতিটি ব্যালটে সিরিয়াল নম্বর যোগ করা ও স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহারের দাবি জানানো হয়।
এছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের কক্ষে প্রতি প্যানেল থেকে অন্তত একজন পোলিং এজেন্ট রাখার সুযোগ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিশ্চিতের কথাও বলা হয়েছে স্মারকলিপিতে।
পাশাপাশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল ব্যালট, নারী ভোটারদের নিরাপত্তা, এবং শহর–ক্যাম্পাসে যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত পরিবহনের দাবিও তোলা হয়েছে।
স্মারকলিপি দেওয়ার পর দুপুর দুইটায় চাকসু ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে দাবিগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন প্যানেলের প্রার্থীরা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ভিপি পদপ্রার্থী ধ্রুব বড়ুয়া, জিএস প্রার্থী সুদর্শন চাকমা, এজিএস প্রার্থী জাকিরুল ইসলাম, যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক প্রার্থী মোশরেফুল হক এবং পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আকিব।
লিখিত বক্তব্যে জিএস প্রার্থী সুদর্শন চাকমা বলেন, ‘৩৫ বছর পর চাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও বিশ্বাস অর্জনই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ডাকসু ও জাকসুর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রশাসনকে এবার আরও দৃশ্যমান ও নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে হবে।’
এজিএস প্রার্থী জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই নির্বাচন শিক্ষার্থীদের আশা জাগিয়েছে। আমরা চাই প্রশাসন আমাদের যৌক্তিক প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করে একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করুক।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ধ্রুব বড়ুয়া বলেণ, ‘প্রশাসন আমাদের দাবিগুলোর যৌক্তিকতা স্বীকার করেছে, কিন্তু বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলেছে। আমরা অন্তত জানতে চেয়েছি—ওএমআর কোথা থেকে নেওয়া হচ্ছে, তা যেন প্রকাশ করা হয়, যাতে নির্বাচন নিয়ে কোনও সন্দেহ না থাকে।’
এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসের কলার ঝুপড়িতে ‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’ প্যানেল ঘোষণা করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাবেক সভাপতি রোনাল চাকমা প্যানেলটি ঘোষণা করেন। এতে সাতটি রাজনৈতিক সংগঠনের ১১ পাহাড়ি শিক্ষার্থী ও ৫ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন।
আগামী ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে সপ্তম চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন। এবার ভোটার ২৭ হাজার, প্রার্থী ৯০৭ জন- এর মধ্যে চাকসুর ২৬টি পদের বিপরীতে ৪১৫ জন এবং হল সংসদের ৪৮৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।


