চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার তিন যুবককে রাশিয়ায় নিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী তিন যুবক হলেন সদর উপজেলার ঘোষেরচর উত্তরপাড়া গ্রামের পলাশ শেখ, সিতারকুল গ্রামের রনি এবং বলাকৈড় গ্রামের সৌরভ মোল্লা।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, ঢাকার নিকুঞ্জ এলাকার রিক্রুটিং এজেন্সি ‘জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ মাসে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনে নির্মাণ খাতে চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাদেরকে রাশিয়া পাঠায়।
গত ৭ মে গোপালগঞ্জের এই তিনজনসহ মোট ৩০ জন বাংলাদেশি একই ফ্লাইটে রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।
অভিযোগ উঠেছে, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের ফোন জব্দ করে, চুক্তিপত্রে সই নিয়ে এবং চুল কেটে সামরিক পোশাক পরিয়ে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী যুদ্ধক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী রনির স্ত্রী তিষা জানান, গত ১৮ মে শেষবার তার স্বামী জানান, তারা সীমান্তের কাছাকাছি একটি ক্যাম্পে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে অনবরত গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, বলাকৈড় গ্রামের সৌরভ মোল্লার চাচি লিমা আক্তার সুখী জানান, সর্বশেষ ১৭ মে সৌরভের সঙ্গে ভিডিও কলে তাদের কথা হয় এবং তাকে সেনাবাহিনীর মতো পরিবেশে দেখা গেছে।
ঘোষেরচর উত্তরপাড়া গ্রামের পলাশ শেখের ফুপাতো ভাই আবু সালেহ জানান, ‘প্রো টেকনোলজি’ নামের একটি কোম্পানিতে চাকরির কথা বলে এক বছরের চুক্তিতে পলাশকে রাশিয়ান আর্মি ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ঢাকার খিলক্ষেত থানায় অভিযোগ করেছে। খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন জানান, তিন যুবককে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়ার একটি অভিযোগ তারা পেয়েছেন।
যুবকেরা সরকারি প্রক্রিয়ায় বৈধভাবে বিদেশে যাওয়ায় তাদের আগে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিএমইটিতে অভিযোগ দায়ের করে সেই কপি থানায় আনলে এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা নেওয়া হবে এবং বিষয়টি আপাতত থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের উদ্ধারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৌশিক আহমেদ জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি শুনেছেন এবং তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগসহ জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তবে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ জানান, এ বিষয়ে জেলা পুলিশে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান জানান, শুরুতে তাদের কাছে সবকিছু ঠিকঠাক মনে হলেও পরে জানতে পেরেছেন যে সেখানে গিয়ে যুবকেরা প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং এক কাজের কথা বলে অন্য কাজে নেওয়া হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, দুই দিনের মধ্যে অন্তত আটজন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করাসহ তারা ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন।


