গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৫১৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে কারও মৃত্যু হয়নি। এখন পর্যন্ত চলতি বছরে মশাবাহিত রোগটিতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ২০৬ জনে। আর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৮৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সেপ্টেম্বর মাসেই সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে। মাসের ২১ তারিখ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ১৩ হাজার ৭৩০ জন, যা বছরের সর্বোচ্চ। এর আগে, জুলাই মাসে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ৬৮৪ জন।
তারা আরও জানায়, জানুয়ারিতে ভর্তি হয়েছিলেন ১ হাজার ৬১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪ জন, মার্চে ৩৩৬ জন, এপ্রিলে ৭০১ জন এবং মে মাসে ১ হাজার ৭৭৩ জন। জুনে রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৯৫১ জনে। জুলাইয়ে ১০ হাজার ৬৮৪ জন এবং আগস্টে ১০ হাজার ৪৯৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে সেপ্টেম্বরে সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
শুধু আক্রান্ত নয়, মৃত্যুর হিসাবও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এ বছর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে সেপ্টেম্বরে, ৬৬ জন। জুলাই মাসে মারা গেছেন ৪১ জন। জানুয়ারিতে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে তিনজন, এপ্রিলে সাতজন, মে মাসে তিনজন, জুনে ১৯ জন এবং আগস্টে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একমাত্র মার্চ মাসেই ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
অঞ্চলভিত্তিক পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকাতেই সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকাতেই ভর্তি হয়েছেন ১৭৫ জন রোগী। ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলায় ভর্তি হয়েছেন ১১১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫ জন, চট্টগ্রামে ৯০ জন, রাজশাহীতে আটজন এবং বরিশালে ১১৫ জন।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন মোট ২ হাজার ৪৭ জন রোগী। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ৭৪৭ জন এবং ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১ হাজার ৩০০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করছে। এর মধ্যে ২০২৩ সাল ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। সে বছর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী। একই বছরে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারান সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০৫ জন।


