চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার বিকালে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতির সময় এ ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপির অন্তত দুজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এনসিপির নেতারা অভিযোগ করেন, চমেক হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে একটি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। রোববার সকালে নোয়াখালীগামী রোগীর জন্য অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা হলে তারা এর প্রতিবাদ জানান। এ সময় অ্যাম্বুলেন্স শ্রমিক ও মালিক সমিতির লোকজনের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়।
দলটির দাবি, নোয়াখালী যাওয়ার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সে ১২ হাজার টাকা ভাড়া চাওয়া হয়, যেখানে স্বাভাবিক ভাড়া প্রায় ৫ হাজার টাকা। একইভাবে এর আগে ফেনীর জন্য ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকার পরিবর্তে ৯ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকাল চারটার দিকে চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এনসিপি। তবে সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সদস্যসচিব এম এ আলী আশিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক সাহাদাত হোসেন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘চমেক হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অ্যাম্বুলেন্স নিয়ন্ত্রণ করছে। বাইরের অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারে না। রোগী ও স্বজনদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার তসলিম উদ্দিনও এ বিষয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন। জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ বলেন, ‘ভাড়া যদি বেশি নিয়ে থাকে, তবে সেই অভিযোগ নিয়ে তার প্রশাসনের মাধ্যমে আসা উচিত ছিল। সে কেন ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে চায়?’
তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্ট কারো বাপের না। ৫ আগস্টের দোহাই এখন আর খাটে না। এ সময় একবার সুযোগ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখন আর সেই সুযোগ নেই। আগস্টের প্রভাব খাটিয়ে কেউ ব্যক্তিগতভাবে কিছু করতে পারবে না।’
ঘটনার পর পাঁচলাইশ থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও জানিয়েছে দলটি। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নেতারা।


