রমজান মাসে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় চট্টগ্রামের বাজারে সবজি ও ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে। রমজানের আনুষঙ্গিক পণ্য–শসা, লেবু, টমেটোর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় সব ধরনের সবজি আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। নিত্যপণ্যের এমন ঊর্ধ্বমুখী দামে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। তবে বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ সংকট ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি দাম বাড়ার মূল কারণ।
শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভালো মানের টমেটো কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় এবং ছোট আকারের টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই দিন আগেও ভালো মানের টমেটো ৪০ টাকায় পাওয়া গেছে।
চার দিন আগে যে শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, শুক্রবার তা বেড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ৪০ টাকার বেগুন এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কাঁচামরিচ ১৬০ টাকা, ধনেপাতা ৬০ টাকা, ফুলকপি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঢ্যাঁড়স ১২০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, গাজর ৬০ টাকা, লাউ ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং মুলা ৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এসব সবজি দুই দিন আগেও কেজিতে ৫ থেকে ১৫ টাকা কম ছিল।

ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানে ইফতারের চাহিদা বাড়ায় খিরা, শসা, গাজর, বেগুন, লেবু ও পুদিনা পাতার দাম বাড়ানো হয়েছে। লেবু প্রতি জোড়া ৪০ টাকা ও ডজন ২০০ টাকা। পুদিনা পাতা কেজি ১১০ টাকা, এক আঁটি ২০ টাকা।
নয়াবাজার এলাকার ক্রেতা আকরম হোসেন টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, অন্য মুসলিম দেশগুলোতে রমজানে পণ্যে ছাড় দেওয়া হলেও দেশে উল্টো চিত্র দেখা যায়। মাসিক বাজেট ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে বিক্রেতারা টাইমসকে বলছেন, শীতকালীন সবজির দাম সাধারণত এ সময়ে কম থাকলেও এ বছর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। আড়তে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। রোজাকে অজুহাত করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি তাদের।

সবজির পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে। শুক্রবার কেজিপ্রতি ব্রয়লার মুরগি ১৯৫ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৬০ টাকা। দেশি মুরগি কেজি ৬২০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্রয়লার মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১১০ টাকা এবং বিভিন্ন খুচরা দোকানে ১০৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
পাহাড়তলী বাজারের এক বিক্রেতা টাইমসকে জানান, পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়েছে। ফার্ম মালিকরা উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।


