চট্টগ্রাম বিভাগে বর্ষা ও বন্যার পরবর্তী পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন রোগবালাই। গত ১০ জুলাই থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত ১০ দিনে বিভাগে ডায়রিয়া, সাপে কাটা ও পানিতে ডুবে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৬৩ জন, যার মধ্যে পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন ২৫ জন।
এর পাশাপাশি বিভাগে নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডেঙ্গু। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ২০ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ৫৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৪৯ জন এবং বেসরকারি ক্লিনিকে পাঁচজন ভর্তি হন। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৫ জনে। যার মধ্যে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ১ হাজার ৮০৪ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ২৭১ জন।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভাগে এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে একজন, বেসরকারি হাসপাতালে একজন এবং বান্দরবানে দুইজনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৮৮ জন ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে সর্বোচ্চ ১৮ জন এবং কক্সবাজারে ২১ জন ভর্তি আছেন।
এ ছাড়া বিআইটিআইডিতে সাতজন, ফেনীতে তিন, লক্ষ্মীপুরে দুই, নোয়াখালীতে আট, বান্দরবানে তিন, খাগড়াছড়িতে চার, কুমিল্লা ছয়, কুমিল্লা মেডিকেলে পাঁচ ও চাঁদপুরে চারজন রোগী চিকিৎসাধীন।
গত ১০ জুলাই থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই ১০ দিনে বিভাগে ১ হাজার ৫৪ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
গত ২৪ ঘণ্টার উপজেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, কক্সবাজারের চকরিয়ায় সর্বোচ্চ ২৩ জন এবং চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ১৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া উখিয়ায় ১২ জন, বাঁশখালীতে ১০ এবং পেকুয়ায় নয়জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিগত ১০ দিনে বিভাগে ৮৩ জন সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও ফটিকছড়িতে একজন করে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য রয়েছে। তবে সর্প দংশনে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
সবচেয়ে মর্মান্তিক চিত্র ফুটে উঠেছে পানিতে ডোবার ঘটনায়। আলোচ্য ১০ দিনে ২৬ জন পানিতে ডুবলেও তাদের মধ্যে ২৫ জনই মৃত্যুবরণ করেছেন। উপজেলা ভিত্তিক মৃত্যুর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রামের বাঁশখালী নয়জন এবং কক্সবাজারের চকরিয়া সাতজন।
এ ছাড়া কক্সবাজার সদর ও পেকুয়ায় দুইজন করে এবং সাতকানিয়া, বান্দরবান সদর, রুমা, বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলায় একজন করে পানিতে ডুবে মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য দপ্তরের ২০ জুলাইয়ের বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯৫ জন এবং সর্প দংশনের শিকার হয়েছেন তিনজন। অন্যদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন ৫৪ জন। অর্থাৎ একদিনে সব মিলিয়ে অসুস্থ হয়েছেন ১৫২ জন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, বন্যার পানি নামার পর ডায়রিয়া ও মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক, তাই এই সময়ে পানি ফুটিয়ে পান করা এবং মশারি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।


