চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে সহায়তা পেয়েছেন অসুস্থ, দরিদ্র ও সংকটে থাকা বহু মানুষ। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ গণশুনানিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
এ সময় চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক সংকটসহ নানা সমস্যা নিয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ তাদের আবেদন তুলে ধরেন।
গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ২৭ বছর বয়সী রোকসানা হক রুপা, যিনি গুরুতর কিডনি রোগে আক্রান্ত। সহায়তা পেয়ে আবেগঘন কণ্ঠে রোকসানা বলেন, ‘ডিসি সত্যিই অনেক মানবিক মানুষ। আমার সব কথা মন দিয়ে শুনেছেন। আমি যতক্ষণ আমার দুর্দশার কথা বলেছি, তিনি একবারও বিরক্ত হননি।’
গণশুনানিতে সহায়তা পান চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তারও। পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে স্নাতকোত্তরে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা এ শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা দেওয়া হয়।
এদিন চার সন্তানের পড়াশোনার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা কৃষক মোকারম আলী, ক্যানসার আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাওয়া হকার অমর দে, হৃদরোগে আক্রান্ত কুসুম আক্তার এবং কিডনির পাথরের অপারেশনের অপেক্ষায় থাকা মিনু আক্তারসহ আরও কয়েকজন অসহায় ব্যক্তি আর্থিক সহায়তা পান।
নিজের অসুস্থতা ও চরম আর্থিক সংকটের কারণে মেয়ের বিয়ে দিতে না পারা দিনমজুর বছির আহমেদও সহায়তার আশায় গণশুনানিতে আসেন। তার কথাও মনোযোগ দিয়ে শুনে জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগর এলাকা থেকে আসা মোট ৬২ জন সেবাপ্রত্যাশীর সমস্যা শোনেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
নাগরিকদের আবেদন, অভাব–অভিযোগ ও ব্যক্তিগত সমস্যার বিষয়ে শুনানি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ সময় গুরুতর অসুস্থ ১২ জন ব্যক্তি, এক শিক্ষার্থী এবং মেয়ের বিয়ের জন্য দুইজন বাবাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এ ছাড়া একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে একটি হুইলচেয়ার দেওয়া হয়।
পাশাপাশি ৩৪ জন দুস্থ নারী ও পুরুষের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ, মরিচ, হলুদ ও ধনিয়া গুঁড়াসহ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।


