চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসির একটি শাখায় জমানো টাকা আদায় ও হেয়ার কাট বাতিলের দাবি বিক্ষোভ করছেন আমানতকারীরা। রোববার সকালে ব্যাংক খোলার সময় শতাধিক বিক্ষুব্ধ গ্রাহক ব্যাংকের ভেতরে ঢুকে জমাকৃত অর্থ ফেরত চেয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এ সময় গ্রাহকরা শাখা ব্যবস্থাপককে খুঁজে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলছেন, পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে ম্যানেজার ব্যাংক ত্যাগ করেছেন।
অন্যদিকে ব্যাংকের কর্মীরা জানান, ব্যবস্থাপক ছুটিতে আছেন এবং সেকেন্ড অফিসার বিদেশে অবস্থান করছেন।
এ পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাকর হয়ে উঠলে বেলা ১২টার দিকে তারা ইউনিয়ন ব্যাংক, খাতুনগঞ্জ শাখায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর তারা পাশের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকেও বিক্ষোভ শুরু করেন।
পরে কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ অনুযায়ী, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে সম্মিলিত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আমানতকারীরা জানান, হেয়ার কাট বাতিল এবং স্বাভাবিক লেনদেন চালু করার পাশাপাশি গ্রাহকদের জমানো টাকা ফেরত চেয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছেন। তবে এরপরও তাদের দাবি আদায় হয়নি।
বিক্ষুব্ধ এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, তার ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকার বেশি জমা থাকলেও প্রয়োজনের সময় সামান্য অর্থও উত্তোলন করা যাচ্ছে না। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে আমানতকারীরা ব্যাংকারদের সহযোগিতা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চান।
তারা বলছেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মূল আমানতের ওপর ‘হেয়ার কাট’ বা নির্দিষ্ট হারে অর্থ পরিশোধের প্রস্তাব দিচ্ছে। এটি তারা মেনে নেবেন না।
গ্রাহকদের অভিযোগ, কেবল সীমিত লেনদেন চালু রেখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ব্যাংকের কর্মীরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা ছাড়া বড় অঙ্কের অর্থ সরবরাহ বা পরিশোধ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, তারা গ্রাহকদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করার সুযোগ দিচ্ছেন।
ব্যাংকিং কার্যক্রমে এমন অচলাবস্থায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে।


