চট্টগ্রামে আলোচিত শিশু ধর্ষণ মামলায় বিচারিক কার্যক্রম শুরু

চট্টগ্রামে আলোচিত শিশু ধর্ষণ মামলায় বিচারিক কার্যক্রম শুরু
আদালত ভবন, চট্টগ্রাম।
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রামের বাকলিয়া চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমার আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার মনির হোসেনের বিরুদ্ধে পুলিশ যে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে, আদালত তা আমলে নিয়েছেন। পরে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করা হয়। এদিন কারাগার থেকে মনির হোসেনকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে আবার কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ৪ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার তদন্তে শিশুটির ডিএনএ প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হয়। একইসঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামি ও ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি রেকর্ড করে পুলিশ। অভিযোগপত্রে মোট ২২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

গত ২২ মে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে হাজির করার পর মনির হোসেন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

আরও পড়ুন

এর আগে,২১ মে বিকেলে চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় স্থানীয় একটি ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী মনির হোসেন সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ করেছেন- এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।

তবে পুলিশ মনিরকে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন বাধা দেন। তারা অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে রেখে ‘শাস্তি’ দেওয়ার দাবি জানান। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে সন্ধ্যার দিকে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলেন। দফায় দফায় সংঘর্ষে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের একটি ট্রাকে আগুন দেয়া হয়। সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন।
পরে ওই রাতেই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন।

ঘটনার পরদিন ২২ মে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার হোসাইন মো. কবির ভূঁইয়া জানান, জিজ্ঞাসাবাদে মনির হোসেন শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। পরে আদালতেও তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় শিশুটির বাবা ঢাকায় ছিলেন এবং মা কর্মস্থলে ছিলেন। শিশুটি এক নারী স্বজনের কাছে ছিল। সেই সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঘটনার দিন শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad