চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা আনুমানিক ছয় হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ডিজেল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসংলগ্ন পতেঙ্গার মাদ্রাসা গেট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত হালদার।
অভিযান চলাকালে ৩০টি ড্রামে অবৈধভাবে মজুত করা আনুমানিক ছয় হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ডিজেল লোডিং ও আনলোডিংয়ের কাজে ব্যবহৃত তিনটি পাম্পও জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা ডিজেল ও সরঞ্জামের আনুমানিক মূল্য প্রায় আট লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (পর্যটন সেল) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত হালদার টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে পতেঙ্গার হাসনা এলাকায় একটি অবৈধ তেলের ডিপোতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে প্রায় ছয় হাজার লিটার তেল পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের মাধ্যমে একটি মামলা করা হয়েছে। উদ্ধার করা তেলের মালিকানা সম্পর্কে কেউ কিছু জানাতে পারেননি।
পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা আহম্মেদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, জেলা প্রশাসন, পতেঙ্গা থানা পুলিশ ও ডিজিএফআইয়ের সমন্বয়ে এ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় ডিজেল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের থানায় নেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার করা ডিজেল পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা করার প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সমুদ্রগামী জাহাজ ও তেল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল পরিবহনের সময় একটি অসাধু চক্র অবৈধভাবে তেল অপসারণ করে তা বিভিন্ন স্থানীয় বিক্রেতার কাছে সরবরাহ করে থাকে।
জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ মজুত প্রতিরোধের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে সব তেল ডিপো, পেট্রল পাম্প ও সংশ্লিষ্ট তেলকারবারিরা প্রশাসনের কঠোর নজরদারির আওতায় রয়েছে। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।


