গাজায় ত্রাণ নিয়ে ছুটে যাওয়া নৌ বহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার’ নেতৃত্বে থাকা বিশ্বখ্যাত জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থুনবার্গকে আটকের পর ‘নির্যাতন’ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এমন অভিযোগ করেছেন তার সঙ্গে আটক হওয়া অন্য অধিকারকর্মীরা।
ফ্লোটিলায় থাকা এক সাংবাদিক বলেন, ‘আমি নিজ চোখে দেখেছি, গ্রেটাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে জোর করে ইসরায়েলের পতাকায় চুমু খেতে বাধ্য করা হয়।’
ইতালির এক সাংবাদিক বলেন, ‘গ্রেটাকে ইসরায়েলের পতাকায় মুড়িয়ে ছবি তোলা হয়। এমনভাবে যেন সে কোনো শিকার!’
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, গত ১ অক্টোবর ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে গ্রেটা থুনবার্গকে বহনকারী জাহাজ আটক করে সব আরোহীকে ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যায় ইসরায়েলি নৌবাহিনী। একে একে ফ্লোটিলার প্রায় ৪৩টি নৌযান থেকে পাঁচ শতাধিক কর্মীকেই তারা আটক করে।

এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত শনিবার ১৩৭ অধিকারকর্মীকে তুরস্কে ফেরত পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবী, মানবাধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতাও আছেন। ইতালি জানিয়েছে, তাদের ২৬ জন নাগরিক দেশে ফিরেছেন এবং আরও ১৫ জন এখনো ইসরায়েলের হেফাজতে আছেন।
তুরস্কের বিমানবন্দরে নেমে কয়েকজন ভুক্তভোগী ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, যার উদ্যোগে, বলীয়ান সাহসে যুদ্ধবিধ্বস্ত, অভুক্ত গাজাবাসীর জন্য তারা ত্রাণ নিয়ে ছুটে গেছেন, সেই গ্রেটা থুনবার্গকে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে অসহনীয় অপমান ও অমানবিক আচরণের শিকার হতে হয়েছে।
মালয়েশিয়ার এক স্বেছাসেবী বলেন, ‘তিনদিন ধরে আমাদের না খাইয়ে রাখা হয়। পরিষ্কার পানি তো দূরের কথা, আমরা টয়লেটের পানি পান করতে বাধ্য হয়েছিল। গ্রেটার সঙ্গে কুকুরের মতো আচরণ করা হয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মীর দাবি, ‘গ্রেটাকে প্রকাশ্যে এনে ইসরায়েল বার বার প্রমাণ করতে চেয়েছে, গাজায় তারা কোনো অপরাধ করছে না। যা চরম মিথ্যাচার। তাকে টেনে হিঁচড়ে একটি ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ইসরায়েলের “কট্টর ডানপন্থী” মন্ত্রীও ছিলেন।’
তুর্কি এক সংবাদমাধ্যমকর্মী বলেন, ‘আমরা তিনদিন না খেয়ে ছিলাম। প্রচণ্ড গরমে কষ্ট পেয়েছি। তখন মনে হচ্ছিল, গাজার মানুষদের কি অবস্থা সেটিই আমাদের বোঝানো হচ্ছে।’
তুরস্কসহ আরও কয়েকটি দেশের কর্মীরা জানান, যেখানে তাদের আটকে রাখা হয়, ওই কারাগারে রক্তের দাগ ছিল। আগের বন্দিরা দেয়ালে তাদের সন্তানের নাম লিখে রেখেছিলেন।

এদিকে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ফিলিস্তিনের মানবাধিকার সংগঠন ও আইনি সহায়তা কেন্দ্র ‘আদালাহ’ জানায়, গাজার মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ছুটে আসা কর্মীদের বন্দি করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাত বেঁধে রাখা হয়। এমনকি যারা অসুস্থ তাদের ওষুধও দেয়নি ইসরায়েলি বাহিনী। তারা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আইনজীবী পাওয়ার অধিকার রাখে। তবে সবাইকে আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতেও দেওয়া হয়নি।’
ইতালির এক এমপি বলেন, ‘যারা আইনের পথে চলছিল, তারা সবাই নৌযানের আরোহী। যারা তাদের থামিয়েছে, তারাই আইন ভেঙেছে।’
তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, ‘সব বন্দিকে খাবার, পানি, শৌচাগার, আইনজীবী—সবই দেওয়া হয়েছে। গ্রেটার সঙ্গেও কেউ খারাপ আচরণ করেনি।’


