কেরানীগঞ্জে আগুন: আসামি ইমান ৩ দিনের রিমান্ডে 

কেরানীগঞ্জে আগুন: আসামি ইমান ৩ দিনের রিমান্ডে 
গ্যাসলাইটার কারখানায় আগুনের ঘটনার আসামি মো. ইমান উল্লাহ ওরফে মাস্তানকে আদালতে নেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাসলাইটার কারখানায় আগুনের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার মো. ইমান উল্লাহ ওরফে মাস্তানকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

সোমবার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর আহমেদের আদালত এই আদেশ দেয়।

রোববার আসামি মো. ইমান উল্লাহ ওরফে মাস্তানকে (৫০) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ওইদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম। বিকালে শুনানি শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করে আদালত।

আবেদনে বলা হয়, গত ৪ এপ্রিল দুপুরে ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর এলাকার একটি গ্যাসলাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, কারখানার ভেতরে মজুত দাহ্য পদার্থ বা গ্যাসলাইটারের কাঁচামাল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

আরও পড়ুন

এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিটের প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এতে আরও বলা হয়, আসামি এই ঘটনার মূল হোতা। তার নেতৃত্বে অজ্ঞাত আসামিদের সহায়তায় অবৈধভাবে লুকিয়ে বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ দিয়ে ফ্যাক্টরিটির কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়।

এদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের প্রার্থনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ এপ্রিল ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার কদমতলী এলাকায় আমবাগিচা ডিবজলের গলিতে মেসার্স এসার গ্যাস প্রো ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগে। এতে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার বিষয়ে গোপনে ও প্রকাশ্যে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আসামিদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তারা জনবহুল এলাকায় অবৈধভাবে আট থেকে দশ বছর ধরে শিশু, মহিলা, পুরুষসহ আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক নিয়ে ফ্যাক্টরিটি পরিচালনা করে আসছে।

এর আগে, আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী, সেনাবাহিনী এবং ম্যাজিস্ট্রেটসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ফ্যাক্টরি বন্ধ ও সিলগালা করলেও আবার তারা ফ্যাক্টরির সামনের গেইটে তালা দিয়ে ভেতরে লুকিয়ে লুকিয়ে বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ দিয়ে কার্যক্রম চালু রাখে।

আসামিরা দেশের প্রচলিত আইন অমান্য করে ফ্যাক্টরিতে অবৈধভাবে শিশু শ্রমিক নিয়োগ দেয়। এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. জুয়েল রানা ইমান উল্লাহসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন- কারখানাটির মালিক মো. আকরাম উল্লাহ আকরাম এবং তার ছেলে আহনাফ আকিফ আকরাম।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad