গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসজুড়ে বসানো অধিকাংশ সিসিটিভি ক্যামেরা দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। এতে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও শনাক্ত করা যাচ্ছে না অপরাধীকে। ফলে অবনতি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউ মার্কেট এলাকায় ‘ব্যাচেলর কর্নার’ নামক একটি কম্পিউটার দোকান থেকে অর্থনীতি বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের রাবেয়া খাতুন নামে এক ছাত্রীর মোবাইল চুরি হয়ে যায়। ঘটনাটি প্রক্টরকে জানানোর পর ছাত্রী নিউ মার্কেট ও মেইন গেট এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চান। কিন্তু প্রক্টরের উপস্থিতিতে নিরাপত্তা দপ্তর থেকে জানানো হয় ক্যাম্পাসের সব সিসিটিভি অকেজো হয়ে আছে। সচল আছে মাত্র চারটি।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তর এ বিষয়ে আইসিটি সেলকে দোষারোপ করছে। অন্যদিকে, আইসিটি সেল দায় চাপাচ্ছে ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরের ওপর। ফলে দফায় দফায় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কোনো সুষ্ঠু তদন্ত সম্ভব হচ্ছে না।
এর আগে, ২৪ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাস থেকে খুলনাগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনে (স্বাধীনতা বাস) কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী প্রিন্স রায়ের ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া ২২ জুলাই স্বাধীনতা দিবস হলের গণরুম থেকে কৃষি বিভাগের ২০২১–২০২২ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০১৮–২০১৯ সেশনের দুই শিক্ষার্থীর মেবাইল চুরি হয়। কিন্তু হলে কোনো সিসিটিভি না থাকায় চোর শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়া ১৫ আগস্ট শেখ রাসেল হলের ২০০ নম্বর রুম থেকেও একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। ভুক্তভোগী মার্কেটিং বিভাগের ২০২০-২০২১ সেশনের শিক্ষার্থী নাদিম হোসেন এ ঘটনায় গোপালগঞ্জ সদর থানায় জিডি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রাবেয়া খাতুন জানান, ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থার নামে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো সিসিটিভিই কাজ করে না। চুরি, হামলা, বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে প্রশাসনের কাছে সবসময় একটাই উত্তর “সিসিটিভি অকেজো”।’
‘হলে কোন সিসিটিভি ক্যামেরা নেই যেটার মাধ্যমে চোরকে শনাক্ত করা যায়। হল প্রশাসন ছাত্রদের নিরাপত্তা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ। হলে নিরাপত্তা বা থাকার মতো সুযোগ-সুবিধা নেই বললেই চলে। হল প্রশাসন মুখেই শুধু বড় বড় কথা বলে, কাজের বেলায় শূন্য। ফোন চুরির ঘটনায় প্রশাসন কোনোভাবেই তাদের দায় এড়াতে পারে না’ কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আবু সায়েম।
এ বিষয়ে প্রক্টর ড. আরিফুজ্জামান রাজিব কোনো বক্তব্য দিতে চান নি। এমনকি নিরাপত্তা কর্মকর্তা আরব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আইসিটি সেলের প্রধান বি এম আরিফুল জানান, ইউজিসি থেকে লোক আসবে যেন উন্নতমানের সিসি ক্যামেরা লাগানো যায়। ঝড়, বৃষ্টিতে যেন তার দ্রুত নষ্ট না হয় সে বিষয়ে নজর দেওয়া হচ্ছে।


