জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে কয়েক দফা সহিংসতার ঘটনায় জারি করা কারফিউ শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে। সহিংসতায় এ পর্যন্ত পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) রাতে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ কামরুজ্জামান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় শনিবার দিনের বেলায় কারফিউ শিথিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতির উন্নয়ন বা অবনতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে কারফিউ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পর্যায়ক্রমে নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, গত বুধবার এনসিপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসনের দাবি, এ হামলায় জড়িত ছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ওই দিন সন্ধ্যা ছয়টা থেকে জেলায় কারফিউ জারি করা হয়; তার আগে দুপুরে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
পরদিন বৃহস্পতিবার, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী গোপালগঞ্জে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রথম দফায় কারফিউর সময়সীমা বাড়িয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কার্যকর রাখার ঘোষণা দেন। তবে ওই দিন বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হয়।
শেষ পর্যন্ত শুক্রবার রাতে দ্বিতীয় দফায় কারফিউর মেয়াদ বাড়িয়ে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কার্যকর রাখা হয়। পরে রাত ১১টায় জেলা প্রশাসন ঘোষণা দেয়, শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল থাকবে।


