ঢাকার উত্তরায় ১২ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বিথী খাতুনসহ চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন।
আদালত প্রধান আসামি বিথী খাতুনের সাত দিন এবং সাফিকুর রহমানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ ছাড়া, বাসার দুই গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমের ছয় দিন ও রূপালী খাতুনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) তাহমিনা আক্তার।
শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার অভিযোগ করেন, শিশুটিকে দীর্ঘদিন ওয়াশরুমে আটকে রাখা হতো। পর্যাপ্ত খাবার না দিয়ে তাকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে এবং গরম খুন্তি দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে দাবি করেন, আঘাতের বিষয়টি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। রূপালীর কোলের শিশুদের কথা বিবেচনায় নিয়ে মানবিক কারণে জামিনের আবেদন জানান তারা।
শুনানিকালে বিচারক বিথী খাতুনের কাছে নির্যাতনের কারণ জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি শুধু দু-একটি চড় দিয়েছেন এবং শিশুর শরীরে আগের দাগ ছিল।
এ সময় আদালত ভুক্তভোগীর জখমের ছবি দেখিয়ে মন্তব্য করেন, অধিকাংশ আঘাত অভিযুক্তদের বাসায় হয়েছে বলে ছবিতে প্রতীয়মান।
বিচারক সাফিকুর রহমানকে উদ্দেশ করে বলেন, তার মতো উচ্চপদে থাকা ব্যক্তির বাসায় এমন ঘটনা কেন ঘটবে–তা তদন্তে স্পষ্ট করতে হবে।
আদালত ১০ কার্যদিবসের মধ্যে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে রিমান্ড চলাকালে রূপালী বেগমের ছোট সন্তানদের বিষয়ে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে তদন্ত কর্মকর্তাকে সতর্ক করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের জুনে শিশুটি উত্তরার একটি বাসায় কাজ শুরু করে। সর্বশেষ ২ নভেম্বর তার বাবা তাকে সুস্থ অবস্থায় দেখেন। এরপর পরিবারকে আর দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
ওই বছরের ৩১ জানুয়ারি অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাকে বাসা থেকে নিয়ে যেতে বলা হয়। পরে গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে ভুক্তভোগী অভিযোগ করে, বিভিন্ন সময়ে তাকে মারধর ও গরম খুন্তি দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা গোলাম মোস্তফা উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।
গ্রেপ্তারের পর গত ২ ফেব্রুয়ারি চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।


