বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম-খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ‘নির্দেশদাতা’ শেখ হাসিনা ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), র্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) নেতারা।
সম্প্রতি ২৮ জনের বিরুদ্ধে গুম, গোপন আটক ও নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
ডাকসু সহ-সভাপতি সাদিক কায়েম, সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ও সহ-সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন খান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অন্ধকার সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। গুম কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এরই মধ্যেই ১৮০০ এর বেশি গুমের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার শিকার হয়েছেন সাধারণ নাগরিক, শিক্ষার্থী, নারী, শ্রমজীবী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। বিশেষ করে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে আটক, নির্যাতন ও গুমের শিকার হয়েছেন। এছাড়া, অনেক শিক্ষার্থী ও ছাত্র-নেতার এখনও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ডাকসুর দাবি, গুম-খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধে একটি পার্শ্ববর্তী দেশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। যা দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দেশে সত্যিকারের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর জনগণের আস্থা ফেরানো সম্ভব হবে না। অপরাধীদের বিচার করলে এসব বাহিনী আরও বিশ্বাসযোগ্য ও গণমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।
অপরদিকে, সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) বলেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযুক্ত কয়েকজন সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তবে, এখন পর্যন্ত তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, যা বিচার নিশ্চিতকরণে আশঙ্কা তৈরি করছে।
দ্রুত মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী ফৌজদারি অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন জাকসুর নেতাকর্মীরা।


