জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত হয়ে ফাঁসি হওয়া বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে।
রোববার বিকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন এই গুমের মামলায় অন্যতম সাক্ষী হিসেবে চিফ প্রসিকিউরের কার্যালয়ে হাজির হন হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সোমবার জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার-সংক্রান্ত এই মামলায় প্রসিকিউশনের উদ্বোধনী বক্তব্য উপস্থাপনের পাশাপাশি সাক্ষ্য নেওয়া শুরু হতে পারে। ওই দিনই হুম্মাম কাদের চৌধুরীর সাক্ষ্য নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রসিকিউশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, রোববার বিকালে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন টিমের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে হুম্মাম কাদের চৌধুরী মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। আসন্ন সাক্ষ্য নেওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
চলমান এই মামলায় হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে গুমের ঘটনার সরাসরি ভুক্তভোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সোমবার এই গুমের ঘটনায় করা মামলার শুনানিও রয়েছে।
প্রসিকিউশনের নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট আদালতে যাওয়ার পথে ঢাকার একটি এলাকা থেকে হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে প্রায় সাত মাস ধরে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে আটক রেখে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৭ সালের ২ মার্চ তার চোখ ও হাত বেঁধে তাকে বাসার কাছাকাছি একটি স্থানে ফেলে যাওয়া হয়।
জেআইসিতে সংঘটিত এই গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বর্তমান ও সাবেক ১২ জন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার চলছে। আদালত প্রসিকিউশনের উত্থাপিত পাঁচটি অভিযোগ গঠন করেছে।
গত ১৮ ডিসেম্বর তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের সঙ্গে সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ওই সময় গ্রেপ্তার তিন আসামি আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।


