রাজধানীর বারিধারার একটি গির্জায় ঢুকে ফাদারকে বেঁধে রেখে টাকা ও জিনিসপত্র লুটের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ভাটারা থানা পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত নগদ অর্থ, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ গ্রিল কাটার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এনএম নাসিরুদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন সময়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- আবুল হোসেন রতন ওরফে হাবু (৩৬), মোহাম্মদ নিজাম ওরফে মিজান (৩৭) ও আক্তার হোসেন মনা ওরফে মনির (৩৮)|
পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে দুজন দুর্বৃত্ত বারিধারার ‘ডি মাজেন্ড গির্জা’-তে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে গির্জার স্টাফদের কক্ষ বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়। এরপর গির্জার পরিচালক ফাদার সুবাস পুলক গমেজের অফিস কক্ষের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে।
পরবর্তীতে তারা কক্ষের আলমারি খুলে আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, একটি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায়। পরে আরেক সহযোগীর সহায়তায় দেয়াল টপকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভাটারা থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে। রিকশার সূত্র ধরে কয়েক হাজার রিকশা ও চালকের তথ্য যাচাই করে প্রথমে আক্তার হোসেন মনা ওরফে মনিরকে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং লুণ্ঠিত এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন বিকালে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি এলাকা থেকে মোহাম্মদ নিজাম ওরফে মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৪৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার দিনগত গভীর রাতে রাজধানীর খিলক্ষেতের আমতলা এলাকা থেকে মূল পরিকল্পনাকারী আবুল হোসেন রতন ওরফে হাবুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে একটি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং আরও এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মাদক ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। এসব খরচ মেটাতে তারা রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও দস্যুতার মতো অপরাধে জড়িত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।


