গাজীপুরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে মো. আনোয়ার হোসেন খান(২০) নামে এক শিক্ষককে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আসামির স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ ভুক্তভোগী শিশুকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুর মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রায় ঘোষণার দিন আসামিপক্ষের আইনজীবী বিচারকের কাছে সময়ের আবেদন করেন। তবে আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করে সাজা ঘোষণা করেন এবং আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপুর (ধানবাড়ী) এলাকার আদর্শ শিশু কানন স্কুলের ছয় বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যায়। সকাল সোয়া ৯টার দিকে অন্য শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে চলে গেলে সহকারী শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন খান শিশুটিকে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার আগে বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষিকা ফরিদা বেগম শিশুটিকে শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে অফিসকক্ষে নিয়ে যান। পরে ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। শিশুটি রক্তাক্ত ও কান্নারত অবস্থায় বাড়ি ফিরে মাকে বিষয়টি জানায়।
পরে শিশুটিকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্য ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর শিশুটির মা গাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আনোয়ার হোসেন খানকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তার স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ ভুক্তভোগী শিশুকে দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য জারি করা সাজা পরোয়ানা সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সেলিনা বেগম। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মহিউদ্দিন ও জাকির কাদের।


