চট্টগ্রাম ওয়াসার অচল, নষ্ট ও চুরি হওয়া সাড়ে ১০ হাজার পানির মিটার পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে। গত ১২ অক্টোবর থেকে এ কার্যক্রম শুরু করে ওয়াসা। মিটার পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রাহকদের গড় বিল ও অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ কমানোর পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায় সংস্থাটি।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর লিমিটেড টেন্ডারিং মেথড (এলটিএম) পদ্ধতিতে মিটার পরিবর্তনের জন্য দরপত্র আহ্বান করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাড়ে ১০ হাজার মিটার পরিবর্তনের কাজ চলছে।
বুধবার সকালে নগরের হালিশহর বড়পোল এলাকায় মিটার প্রতিস্থাপন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম। এ সময় তিনি গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মিটার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা, তাদের সমস্যা ও অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নেন।
ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, পানির মিটার নষ্ট, অচল বা চুরি হয়ে গেলে অনেক গ্রাহক সময়মতো তা পরিবর্তন করেন না। ফলে নিয়ম অনুযায়ী তাদের গড় বিল দিতে হয়। পরে নিয়মিত বিলের সঙ্গে গড় বিলের পার্থক্য দেখা দিলে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। এ নিয়ে ওয়াসার কাছে অভিযোগও করেন তারা।
এ পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে অচল, নষ্ট ও চুরি হওয়া মিটার পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মিটার পরিবর্তন হলে গ্রাহকেরা পানির প্রকৃত ব্যবহার অনুযায়ী বিল পাবেন বলে আশা করছে ওয়াসা।
পরিদর্শনকালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম মো. জানে আলম বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা গ্রাহকদের সেবা সহজ করার বিষয়ে বদ্ধপরিকর। ওয়াসায় যোগদানের পর থেকে গড় বিল, বেশি বিল ও ভুতুড়ে বিলের অভিযোগ নিয়ে অনেক গ্রাহক সরাসরি কিংবা লিখিতভাবে অভিযোগ করছেন।
তিনি বলেন, এসব অভিযোগের মূল কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকের পানির মিটার নষ্ট, অচল বা চুরি হয়ে গেছে। গ্রাহকেরা মিটার পরিবর্তনে বিলম্ব করায় কিংবা অনীহা প্রকাশ করায় ওয়াসাকে নিয়ম অনুযায়ী গড় বিল দিতে হয়।
সেলিম মো. জানে আলম বলেন, ‘গ্রাহকদের সুবিধার জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসা সাড়ে ১০ হাজার মিটার প্রতিস্থাপন করে দিচ্ছে। এর ফলে সম্মানিত গ্রাহকেরা মিটার রিডিং অনুযায়ী বিল পাবেন। ভুতুড়ে বিলের অভিযোগ থেকেও আমরা রক্ষা পাব।’
তিনি আরও বলেন, মিটারের সঠিক রিডিং অনুযায়ী বিল করা হলে রাজস্ব আদায় বাড়বে এবং বিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে গ্রাহকদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
মিটার প্রতিস্থাপন কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে গ্রাহকেরা বলেন, নতুন মিটার বসানো হলে গড় বিলের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন তারা। একই সঙ্গে পানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়ন ও রাজস্ব আদায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ায় ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ধন্যবাদ জানান তারা।
পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) শারমিন আক্তার, বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সাজিয়া পারভীন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রুমন দে, রাজস্ব কর্মকর্তা এরফানুল করিম সাজ্জাদ ও সংশ্লিষ্ট মিটার পরিদর্শকেরা।


