গাজা যুদ্ধ বন্ধে মিশরের শারম আল-শেখে আন্তর্জাতিক সম্মেলন করতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। মিশরীয় প্রেসিডেন্ট কার্যালয় শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, সোমবার অনুষ্ঠিতব্য ওই বৈঠকে ২০টিরও বেশি দেশের নেতা অংশ নেবেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প কেবল সম্মেলনে অংশই নেবেন না, তিনি সেখানে সভাপতিত্বও করবেন। ‘গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের অবসান, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীল ফিরিয়ে আনা এবং একটি গাজায় হামাসবিহীন নিরাপত্তা বাহিনী ও অন্তর্বর্তী শাসন প্রতিষ্ঠার’ লক্ষ্যে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কিংবা হামাসের কোনো প্রতিনিধি সম্মেলনে থাকবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক বার্তায় জানান, সোমবারই গাজায় হামাসের হাতে জিম্মি থাকা ইসরায়েলি নাগরিকদের মুক্তি দেওয়া হবে। তাদের মধ্যে ২০ জন জীবিত এবং ২৮ জনের মৃতদেহ রয়েছে।
এর বিনিময়ে ইসরায়েল প্রায় ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দি ছাড়বে। তবে তাদের মধ্যে ইসরায়েলি হত্যায় দণ্ডপ্রাপ্ত রাজনৈতিক নেতা থাকার সম্ভাবনা কম। যে সব ফিলস্তিনি কে মুক্তি দেওয়া হবে, তাদের অধিকাংশই গত দুই বছর ধরে বিনা অভিযোগে আটক ছিলেন। এরই মধ্যে মুক্তির তালিকায় থাকা ফিলস্তিনি বন্দিদের ওফার এবং কৎসিয়ত কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষ। , “রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের” অপেক্ষায়।

এদিকে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে গাজার উপকূল ধরে নিজেদের পরিত্যক্ত, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি।
যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ইসরায়েলি বাহিনী মধ্য ও উত্তর গাজা থেকে কিছুটা পিছু হটেছে। তবে তারা এখনও গাজা থেকে পুরোপুরি সরে যায়নি। আল জাজিরার ফিলিস্তিনি প্রতিবেদক হানি মাহমুদ গাজা থেকে জানান, এই যুদ্ধবিরতি ‘দুই বছর ধরে চলমান সহিংসতার মাত্রা কয়েকদিনের জন্য বন্ধ করেছে। তবে গাজাবাসীর সংগ্রাম এখনও চলছে।’
তিনি বলেন, ‘বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ মানুষ শেষ সম্বল নিয়ে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে ঘরে ফিরছেন। কারও কোলে আহত শিশু, কারও সঙ্গে বৃদ্ধ বাবা মা। তবুও তারা ক্লান্ত নন। কারণ তারা নিজ ভূমিকে ভালোবাসেন। তাদের গাজা থেকে উৎখাত করা সম্ভব না।’
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে গাজায় এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি জনসেবামূলক কাজ পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- গাজা সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ ও পৌরসভার উদ্যোগে পরিচালিত ৮৫০টির বেশি উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি।

এসব অভিযানে ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া মরদেহ উদ্ধার ও বিধ্বস্ত এলাকা আপাতত ঠায় নেওয়ার মতো নিরাপদ করা।
সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকে এ পর্যন্ত গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, খান ইউনিসের নাসের হাসপাতাল জানিয়েছে, তারা শুধুমাত্র দক্ষিণ গাজার শরণার্থী শিবিরের কাছাকাছি অঞ্চল থেকে অন্তত ২৮টি মরদেহ উদ্ধার করেছে।
নেতানিয়াহুর সরকার যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও এখনও গাজার ওপর অবরোধ প্রত্যাহার করেনি। কাজেই উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। খান ইউনিসের মেয়র জানিয়েছেন, শহরের প্রায় ৮৫ শতাংশ অবকাঠামোই ধ্বংস হয়ে গেছে। যা সব ভবন এখনও টিকে আছে সেগুলোও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। তিনি বলেন, ‘শহরের রাস্তাগুলো থেকে প্রায় চারশ হাজার টন ধ্বংসাবশেষ সরাতে হবে।’


