প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহিদুল দেশে পৌঁছে বলেছেন, ফিলিস্তিন এখনো স্বাধীন হয়নি, তাই গাজা নিয়ে সংগ্রাম শেষ হয়নি।
শনিবার ভোর ৫টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন তিনি।
শহিদুল বলেন, ‘প্রথমেই বলতে চাই এখনো গাজা মুক্ত হয়নি। তাই গাজা নিয়ে আমাদের সংগ্রাম শেষ হয়নি। যতক্ষণ পর্যন্ত ফিলিস্তিন মুক্ত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।’

ইসরাইলি বর্বরতার সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে আটকের সময় বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেখে ইসরাইলি সেনা সদস্যরা বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে যায় এবং তার পাসপোর্ট মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেয়।’
‘এমন ন্যাক্কারজনক কাজ আমাকে খুবই আঘাত করেছে। একটি দেশের পাসপোর্ট এমনভাবে ছুড়ে ফেলা অপরাধ, আর তারা এমন অপমান করে পার পেয়ে যাবে তা মেনে নেয়া যায় না,’ বলেন শহিদুল।
তিনি বলেন, ‘বাংলদেশের মানুষের ভালবাসা আমাকে ফিরে আসার সুযোগ করে দিয়েছে। মনে রাখতে হবে যে গাজার মানুষ এখনও মুক্ত হয়নি। গাজার মানুষ এখনো আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের উপর এখনো নির্যাতন চলছে। সেটা যতক্ষণ না হয়, আমাদের কাজ কিন্তু শেষ হয়নি।’
‘সারা পৃথিবী থেকে বাংলদেশীরা যেভাবে সাড়া দিয়েছেন, দোয়া করেছেন, বাংলাদেশ সরকার ও টার্কিশ সরকার যেভাবে সাহায্য করেছেন – সবাইকে ধন্যবাদ জানাই,’ যোগ করেন তিনি।

শহিদুল বলেন, ‘আমি যেতে পেরেছি, অনেকে পারেনি। অনেকে যেতে চেয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করেছে। আমাদের মত আরও হাজার ফ্লোটিলা যাওয়া দরকার, যতদিন না ফিলিস্তিন স্বাধীন হয়।’
সময় তিনি দেশবাসী, অন্তর্বর্তী সরকার, তুরস্ক সরকার এবং টার্কিশ এয়ারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
এদিকে, শহিদুল প্রতিষ্ঠিত ‘দৃক’ আর্ট গ্যালারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এ দিন বিকালে তিনি ধানমন্ডিতে ওই প্রতিষ্ঠানে সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক গাজা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরবেন।

শহিদুল শুক্রবার ইসরায়েল কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ইস্তাম্বুলে পৌঁছান। সেখানে তাকে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমান স্বাগত জানান। স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ইস্তাম্বুল থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
এরআগে, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস শহিদুলের মুক্তি ও দেশে ফিরতে সহযোগিতা করার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে ধন্যবাদ জানান।
ইসরাইলের বর্বরতার বিরুদ্ধে গাজা অভিমুখে ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’ ব্যানারে নৌযাত্রা শুরু করেছিল। মোট ৯টি নৌযানের এ বহরে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও মানবাধিকাকর্মী যোগ দিয়েছিলেন।
এই নৌবহরে ‘কনসায়েন্স’ নামক জাহাজে চিকিৎসক ও সাংবাদিক প্রতিনিধি দলে ছিলেন শহিদুল। বুধবার ওই নৌবহরে আক্রমণ করে সব অধিকারকর্মী ও নাবিককে আটক করে ইসরাইলি সেনারা।


