‘গাজা যুদ্ধ’ নিয়ে আলোচনার জন্য মুসলিম প্রধান দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মিসর, জর্ডান, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি বহুপাক্ষিক বৈঠক করবেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভা বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে লেভিট বলেন, ‘বৈঠকে ট্রাম্প ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা শাসনব্যবস্থা নিয়ে একটি প্রস্তাব তুলে ধরবেন। এছাড়া হামাসের হাতে জিম্মিদের মুক্তি এবং স্থায়ী যুদ্ধ বন্ধের পরিকল্পনা নিয়েও তিনি আলোচনা করবেন। পাশাপাশি গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং “হামাস-বিহীন” গাজা শাসনব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা মুসলিম বিশ্বের সামনে তুলে ধরবেন।’
রয়টার্সের দাবি, গাজায় সামরিক বাহিনী পাঠাতে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর ইতিবাচক সাড়া চায় ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে প্রত্যাহার করে শহরটির ‘পুনর্গঠন কর্মসূচির’ জন্য বিশ্বের পক্ষ থেকে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে চায়।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের শাসনভার নিয়েই গাজা যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে তার ক্ষমতা নেওয়ার আট মাস পেরোলেও গাজায় ইসরায়েলি ‘গণহত্যা’ এখনও চলমান। এমনকি এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাকে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। তিনি গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের ‘স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ’ করার প্রস্তাব দিয়ে গাজা পুনর্গঠনের পরিকল্পনা জানালে বিশ্বনেতাদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন।
সে সময় জাতিসংঘ এটিকে ‘জাতিগত নির্মূল পরিকল্পনা’ হিসেবে অভিহিত করে। আন্তর্জাতিক আইনে ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি’ অবৈধ।

এদিকে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প। তার আগেই প্রায় ১২ দেশের নেতারা জাতিসংঘে জড়ো হয়ে ফিলিস্তিনকে ‘স্বাধীন রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে- যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, পর্তুগাল, ফ্রান্স, অ্যান্ডোরা, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, মোনাকো। ফিলস্তিনকে রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেওয়ার পথে আছে আরও কয়েক দেশ।
তারা বলছেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র সমাধান হলো দ্বি-রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধান। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ‘গাজা যুদ্ধ’ শুরুর পর জাতিসংঘের প্রায় ১৫0টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া এক ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক পরিবর্তন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে এর বিরোধিতা করছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের দাবি, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে ‘হামাসের মতো উগ্রপন্থাকে পুরস্কৃত’ করা।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের গাজায় হামলায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, গাজার পুরো জনগোষ্ঠী হয়েছে বাস্তুচ্যুত, সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ। একাধিক অধিকার বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং জাতিসংঘ তদন্ত কমিশন বলেছে, এটি গণহত্যার শামিল।
অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, এটি আত্মরক্ষার অংশ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলি সীমান্তে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন ‘হামাসের’ হামলায় অন্তত ১২শ মানুষ নিহত হন। হামাসের হাতে জিম্মি হন আড়াই শতাধিক মানুষ।
এর জবাবে দুই বছর ধরে গাজায় যুদ্ধ করছে ইসরায়েলি সেনারা। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। সবশেষ সোমবার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।


