গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর ড্রোন হামলায় আল জাজিরা মুবাশারের সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহ নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোরের দিকে গাজা শহরের প্রধান সড়কে তার গাড়ি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
একই দিন আল জাজিরা তাদের এক প্রতিবেদনে মোহাম্মদ উইশাহের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা শহরের মূল সড়কে গাড়ি চালানোর সময় তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। তিনি আল জাজিরা মুবাশারের সংবাদদাতা ছিলেন।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ২৬২ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজে) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জোডি গিন্সবার্গ বলেন, ‘এটি ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে আমরা ধারাবাহিকভাবে দেখে আসছি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ২৬০ জনেরও বেশি সাংবাদিক এবং সংবাদকর্মী নিহত হয়েছেন।’
আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। নেটওয়ার্ক বলেছে, গাজা উপত্যকার পশ্চিমে ভ্রমণরত একটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে আল জাজিরা মুবাশারের সংবাদদাতা মোহাম্মদ উইশাহকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং হত্যা করা হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার নতুন ও চরম লঙ্ঘন এবং সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করে সত্যের কণ্ঠস্বর রোধ করার চলমান একটি সুশৃঙ্খল নীতির প্রতিফলন।

নেটওয়ার্কের ভাষ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ উইশাহকে লক্ষ্যবস্তু করা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ইচ্ছাকৃত অপরাধের ধারাবাহিকতার আরেকটি পর্ব। এই হত্যাকাণ্ড গণমাধ্যমকর্মীদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করার এক বিপজ্জনক উত্তেজনার অংশ, যা গাজা উপত্যকার বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিবেদন তৈরিতে বাধা দেওয়ার এবং বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধগুলো গোপন করার একটি স্পষ্ট প্রচেষ্টা।
মোহাম্মদ উইশাহ গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত আল জাজিরার সাংবাদিকদের তালিকায় যুক্ত হলেন সামের আবু দাক্কা, হামজা আল দাহদুহ, ইসমাইল আল ঘুল, আহমেদ আল লুহ, হোসাম শাবাত, ইব্রাহিম থাহের, মোহাম্মদ ক্রেইকিয়া, মোহাম্মদ নফাল, আনাস আল শরীফ এবং মোহাম্মদ সালামার সঙ্গে।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ২০১৮ সালে যোগ দেওয়া তাদের সংবাদদাতা মোহাম্মদ উইশাহের মৃত্যু কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং সাংবাদিকদের ভয় দেখানো এবং তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার জন্য এটি একটি ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিত অপরাধ।
নেটওয়ার্ক এই অপরাধের জন্য ইসরায়েলি বাহিনীকে সম্পূর্ণ দায়ী করে বলেছে, এটি তাদের সাংবাদিকদের নীরব করার এবং চলমান ঘটনাবলির সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়ার জন্য উসকানি ও লক্ষ্যবস্তু করার একটি ধারাবাহিক ও সুশৃঙ্খল কাঠামোর অংশ।
তার পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে আল জাজিরা বলেছে, এ ধরনের অপরাধ তাদের সাংবাদিকতার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। নেটওয়ার্ক আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার ও মিডিয়া সংস্থাগুলোর প্রতি এই গুরুতর লঙ্ঘন বন্ধ করা, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং দায়মুক্তির অবসান ঘটাতে জরুরি অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এ ছাড়া, গাজায় তাদের সংবাদদাতা ও কর্মীদের হত্যার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে এবং নিহত সাংবাদিকদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে আল জাজিরা।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বারবার বেসামরিক নাগরিক ও সাংবাদিকদের সুরক্ষার আহ্বান জানালেও ইসরায়েলের আগ্রাসন থামছে না।


