গণভোটে জয়ের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন করা সম্ভব বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ।
তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু এতদিন সেই জনগণকেই বঞ্চিত রাখা হয়েছে। তাই গণভোটে জয়ের মাধ্যমে আপনার কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে, বিবেকের তাড়নায় গণভোটে অংশগ্রহণ জরুরি। যাতে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ অতীতের মতো না হয়।’
ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস ময়দানে সোমবার বিকালে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশে আয়োজিত ইমামদের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ বিভাগীয় ইমাম সমাবেশের আয়োজন করে।
আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমরা একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র তৈরির পথে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু স্বাধীনতার চুয়ান্ন বছরেও আমরা তা অর্জন করতে পারিনি। সময় এসেছে গণভোটে রায়ের মাধ্যমে জনগণের কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা বিনির্মাণের। ফ্যসিবাদের নিষ্পেষণে জর্জরিত রাষ্ট্রকে উদ্ধার করতে প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে ব্যাপক সংস্কার করতে হবে। আর সেই সংস্কারের লক্ষ্যেই আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ বলা সময়ের দাবি।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচিত সরকারই ৪২ শতাংশের বেশি ভোট পায়নি। সংস্কার প্রস্তাব অনুসারে, সংবিধানের উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতে ১০০টি আসন থাকবে। অর্থাৎ যে দল মোট ভোটের মাত্র পাঁচ শতাংশ ভোট পেয়েছে কিন্তু সরকার গঠন করতে পারেনি, সংসদের উচ্চকক্ষে তারও পাঁচজন প্রতিনিধি থাকবে। আর সংবিধান সংশোধনে কমপক্ষে ৫১ ভোটের সমর্থনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগবে।’
রাষ্ট্রপতির নিয়োগ ও দায়িত্ব সম্পর্কে আলী রিয়াজ বলেন, ‘বিগত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই সব হতো। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্য কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহণ করতে পারেন না। অথচ বলা হয়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়, বিচার ব্যবস্থায় বিচারপতি নিয়োগ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পদায়ন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এগুলো তৎকালীন সরকারপ্রধানের ইচ্ছা অনুসারেই হয়ে থাকে।’
সংবিধানের ৭০নং অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নিজ দলের এমপিদের মুখে স্কচটেপ এঁটে দেওয়ার মতো। এ ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিকাশে বিশাল বাধা। এ ব্যবস্থার উত্তরণে সংস্কার প্রস্তাবে অর্থবিল এবং আস্থা ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজ নিজ দলের অনুগত থাকবে, অন্য বিষয়ে এমপিরা স্বাধীন মতামত দিতে পারবেন এমন প্রস্তাব করা হয়েছে।’
সরকারি কর্মচারীরা গণভোটের প্রচারণা করতে পারেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী আইনগত কোনো বাধা নেই বলেও জানান তিনি।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তৃতা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফজলুর রহমান, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি আতাউল কিবরিয়া।


