খুলনা মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী জোড়াগেট কোরবানির পশুর হাটে এবার রেকর্ড পরিমাণ গরু-ছাগল বিক্রি হয়েছে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) নিয়ন্ত্রণ কক্ষের চূড়ান্ত তথ্য অনুযায়ী, এবারের হাটে মোট ৬ হাজার ৮৮০টি পশু বিক্রি হয়েছে।
বিক্রি হওয়া পশুর মধ্যে রয়েছে ৪ হাজার ৪৩৩টি গরু, ২ হাজার ২৭০টি ছাগল, ১৭৬টি ভেড়া এবং একটি মহিষ। পশু বিক্রি থেকে ৪ শতাংশ হাসিল আদায়ের মাধ্যমে কেসিসির রাজস্ব আয় হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ২৩২ টাকা।
গত বছরের তুলনায় এবার পশু বিক্রির সংখ্যা ও রাজস্ব—দুইই বেড়েছে। গত বছর এই হাটে মোট ৬ হাজার ৬৫১টি পশু বিক্রি হয়েছিল এবং রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ কোটি ৭ লাখ ৯ হাজার ৬০২ টাকা।
২০০৯ সাল থেকে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ঈদুল আজহার আগে সপ্তাহব্যাপী জোড়াগেট পশুর হাট পরিচালনা করে আসছে। প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ী ও খামারিরা পশু নিয়ে হাটে অংশ নেন।
তবে শেষ সময় পর্যন্ত ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি থাকলেও বড় গরুর বাজার ছিল অনেকটাই মন্দা। অধিক দামের কারণে বিশালাকৃতির অনেক গরু বিক্রি হয়নি বলে জানিয়েছেন খামারিরা।
বিক্রেতাদের অভিযোগ, অনেক ক্রেতা বড় গরুর দাম শুনেই ফিরে গেছেন। এমনকি বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে দর-কষাকষির সুযোগও হয়নি। এতে বড় গরুর খামারিদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে বিশেষ কার্যক্রম চালিয়ে রাতের মধ্যেই নগরীর সব বর্জ্য পরিষ্কার করেছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পরিচালিত এ কার্যক্রমে কেসিসির ৭৭২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অংশ নেন। বর্জ্য অপসারণ কাজে ব্যবহার করা হয় ৮২টি যানবাহন।
কেসিসি সূত্র জানায়, প্রতি বছরের মতো এবারও নগরজুড়ে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত সরিয়ে ফেলতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন ওয়ার্ডে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
প্রতিবছর খুলনা মহানগরীতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টন কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


