মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার চলমান চুক্তি প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ চুক্তি প্রক্রিয়ার সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার আশ্বাস দেয়। আগের শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের আশ্বাস থাকার পরেও এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছে হস্তান্তরের বৈধতা প্রশ্নে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন চলতি বছর একটি রিট করেছিলেন। গত ৩০ জুলাই ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট।
এরপর এনসিটি পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তি সম্পর্কিত প্রক্রিয়ায় স্থিতাবস্থা চেয়ে সম্পূরক আবেদনও করে রিট আবেদনকারী পক্ষ।
এই আবেদনের শুনানিতে গত ১৩ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল শুনানির জন্য ১৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। বুধবার সেই রুলের ওপর শুনানি শুরু হয়। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে চুক্তির সব কার্যক্রম স্থগিত রাখতে সরকারকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
এর আগে, বুধবার রিটকারী পক্ষের আইনজীবী আহসানুল করিম বলেছিলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা সরাসরি জড়িত। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সেনাপ্রধানও এই বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিদেশি কোম্পানিকে দায়িত্ব দিলে রাজস্ব বাড়বে না, বরং বড় অংশ বিদেশে চলে যাবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ২২-৩০ বছরের জন্য এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। যা নিয়ে দেশজুড়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদ।


