খুলনায় নদী খননে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, আসকের উদ্বেগ

খুলনায় নদী খননে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, আসকের উদ্বেগ
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় নদী পুনঃখনন কাজের উত্তোলিত মাটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরবাড়ির পাশে ও ওপরে রাখা হয়েছে। এতে শতাধিক পরিবারের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত ও তাদের বসবাস বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে এই বিবৃতিটি পাঠান সংস্থার সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির।

বিবৃতিতে বলা হয়, নদী পুনঃখনন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম মানুষের জীবন, আবাসন, নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে সংকটে ফেলে করা ঠিক নয়। খননকৃত মাটির চাপে ঘরবাড়িতে ফাটল ধরেছে। টিউবওয়েল ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অনেক পরিবার এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এই ঘটনা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিকল্পনার ঘাটতি, ঝুঁকি মূল্যায়নের অভাব ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অধিকারের প্রতি উদাসীনতার প্রমাণ।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, একসময়ের ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলো সরকারের সহায়তায় পুনর্বাসিত হয়েছিল। তারা এখন নতুন করে বাস্তুচ্যুতি ও অনিরাপদ জীবনের মুখে পড়েছে। একটি উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে আরেকটি রাষ্ট্রীয় পুনর্বাসন উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার বড় উদাহরণ।

সংগঠনটি মনে করিয়ে দেয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে নাগরিকের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলা হয়েছে। ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে ব্যক্তি-নিরাপত্তা ও আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারের স্বীকৃতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন মানুষের মৌলিক অধিকার। জনগণের এই অধিকারগুলো রক্ষা করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়ন, ঝুঁকিপূর্ণ ঘরবাড়ি মেরামত, ক্ষতিগ্রস্ত টিউবওয়েল ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা দ্রুত চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad