খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে রামগড় থানা পুলিশ। তাদের মধ্যে দুইজন চীনা নাগরিক।
সদর উপজেলার খান কমপ্লেক্সে অভিযান চালিয়ে চতুর্থ তলার একটি কক্ষ থেকে ওই অভিযুক্তদের আটক করা হয়। পরে শনিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে খাগড়াছড়ি আদালতে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার চীনা নাগরিকরা হলেন জিয়াং চেংটং (৩৩) এবং তাং তংউ (৩২)। তারা চট্টগ্রামের খুলশী আবাসিক এলাকায় বসবাস করছিলেন। গ্রেপ্তার অন্য অভিযুক্ত হলেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর বাসিন্দা মো. আসিফ উদ্দিন (২৫)।
রামগড় থানা পুলিশ জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো বিদেশি নাগরিককে অবস্থান করতে হলে বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন। গ্রেপ্তারকৃত দুই চীনা নাগরিক এ অনুমতি ছাড়াই রামগড়ে অবস্থান করছেন এমন তথ্য পেয়ে বুধবার রাতে পুলিশ ওই কক্ষে অভিযান চালায়।
এসময় সেখানে থাকা বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম দেখে তাদের সন্দেহ হলে ঢাকা থেকে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) বিশেষজ্ঞ দলকে খবর দেওয়া হয়। তারা ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকলের (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) অবৈধ ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত করেন।
অভিযানে কক্ষটি থেকে সিমবক্স, রাউটার, কানেকশন প্যানেল, অ্যান্টেনা, এনভিআর মেশিন, পিওই সুইচসচ ৬০টির বেশি ডিভাইস জব্দ করা হয়। এসব ডিভাইস ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশন জালিয়াতি চালানো হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে বিটিআরসি। এতে সরকারের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এরইমধ্যে বিটিআরসির উপসহকারী পরিচালক মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ (সংশোধনী ২০১০)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেছেন।
রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন বলেন, ‘জব্দ করা সরঞ্জামগুলো অবৈধ কলরাউটিংয়ে ব্যবহৃত হচ্ছিল বিটিআরসি তা নিশ্চিত করার পরই মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ধরনের আরও কোনো চক্র এলাকায় সক্রিয় আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে’


