খাগড়াছড়ি জেলা সদরে পাহাড়ি স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতার ঘটনায় তিনটি মামলা করেছে পুলিশ। এসব মামলায় প্রায় এক হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর মধ্যে খাগড়াছড়ি থানার মামলায় আসামি করা হয়েছে ছয়শ থেকে সাতশ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে। আর গুইমারা থানার দুই মামলার আসামি দুই থেকে আড়াইশ জন।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি আব্দুল বাতেন মৃধা জানান, পুলিশে উপর হামলা, ১৪৪ ভঙ্গ, ভাংচুর ও দাঙ্গা সৃষ্টি করার অভিযোগে এই মামলা হয়েছে। মামলার বাদী সদর থানার এসআই মো. শাহরিয়ার।
অন্যদিকে গুইমারা থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, পুলিশের ওপর হামলা ও হত্যার দায়ে অজ্ঞাত দুইশ থেকে আড়াইশ জনকে আসামির দুটি মামলা করা হয়েছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে মারমা জনগোষ্ঠীর স্কুলছাত্রী দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় অজ্ঞাত তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পরে এই মামলায় শয়ন শীল নামে একজনকে আটক করে রিমান্ডে নেওয়া হয়।
অন্য দুই আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ, অবরোধের সহিংসতায় মারা যায় তিনজন। পরে এ ঘটনায় জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। রোববার গুইমারায় দুইপক্ষের সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগে ৯০টির বেশি ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও স্থাপনা পুড়ে যায়। এর মধ্যে বেশিরভাগ মারমাদের। কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি অফিসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জুম্ম ছাত্র-জনতা নামের সংগঠনের ডাকে শনিবার থেকে শুরু হওয়া অবরোধ শারদীয় দুর্গোৎসব এবং প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। এতে কয়েকদিনের সহিংসতা ও সড়ক অবরোধের অস্থিরতা কাটিয়ে বুধবার থেকে স্বাভাবিকতায় ফিরতে শুরু করে খাগড়াছড়ির জনজীবন।
সেদিন জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেছিলেণ, ‘তদন্ত কমিটির কাজ শুরু হলেও সরেজমিন কার্যক্রম আগামী রোববার থেকে শুরু হবে। সবকিছু স্বাভাবিক হলে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর মতামতের ভিত্তিতে ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়া হবে।’


