দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক পরামর্শক কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ ড. মনজুর আহমেদ। সম্প্রতি টাইমস অব বাংলাদেশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থা, নিরপেক্ষ শিক্ষা কমিশন গঠন ও সর্বজনীন শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়নের প্রতিবন্ধকতা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষকদের প্রতি অবহেলা এবং শিক্ষাঙ্গণের পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলীম হায়দার।
প্রশ্ন: বছরজুড়েই আন্দোলনে ছিলেন স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষকরা। শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে পরীক্ষা পর্যন্ত স্থগিত হয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠানে। সবকিছু মিলিয়ে শিক্ষাঙ্গনের জন্য ২০২৫ সালকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
উত্তর: এই বছরটা শিক্ষার জন্য খুব একটা সাফল্য বা সন্তোষের সময় ছিল না। তবে বিষয়টা একটু বৃহত্তর পরিপ্রেক্ষিতে দেখতে হবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর সামাজিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা দেখা যায়। শিক্ষার ক্ষেত্রেও এমন আশা ছিল। কিন্তু কোনো অগ্রগতি হয়নি। শিক্ষা নিয়ে গণতান্ত্রিক পন্থায় আলোচনার কোনো সুযোগ অতীতে ছিল না। তাই দাবি-দাওয়া অভিযোগ-অনুযোগগুলো আন্দোলনের মাধ্যমে এই সময়ে প্রকাশ পেয়েছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে আসার কারণে শিক্ষকরা আন্দোলন করতে পেরেছেন।
শিক্ষকদের অভিযোগগুলো সামগ্রিকভাবে যৌক্তিক। বেতন-ভাতা, মর্যাদা, পদোন্নতি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা; সব বিষয়ে দাবি-দাওয়া আছে শিক্ষকদের। কিন্তু এসব নিয়ে সামগ্রিকভাবে সরকারের কোনো চিন্তা-ভাবনা দেখা যায়নি। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কিছু ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিন্তু তাতে কোনো সমাধান হচ্ছে না।
পরীক্ষা বন্ধ করে রাস্তায় নামা যৌক্তিক নয়। কিন্তু শিক্ষকদের যেসব অভিযোগ আছে, সেখানে সরকারের আন্তরিকতা কতখানি ছিল তা প্রশ্নসাপেক্ষ।
গণঅভ্যুত্থানের সময় রাষ্ট্র মেরামতের স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। শুধু সরকার পরিবর্তনের নয়, দেশের মানুষ চেয়েছিল রাষ্ট্র ব্যবস্থার রূপান্তর ঘটুক। অভ্যুত্থানের পর ১১টি বড় বড় সংস্কার কমিশন হলো কিন্তু শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো কমিশন হলো না। আমরা শিক্ষাবিদরা হতাশ হলাম।
প্রশ্ন: শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের জন্য কেন কোনো কমিশন করা হলো না?
উত্তর: এটা ইতিহাসেরই একটি ধারাবাহিকতা। শিক্ষা সবসময় অবহেলার জায়গা ছিল। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত কয়েকটি শিক্ষা কমিশন হয়েছে কিন্তু তা বাস্তবায়নের চেষ্টাও করা হয়নি। গত ৫৪ বছরে কখনো এসব কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের সামগ্রিক কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
অথচ দেশের এক চতুর্থাংশ মানুষ, অন্তত চার কোটি শিক্ষার্থী, তাদের পরিবার ও শিক্ষকদের ধরলে দেশের অধিকাংশ মানুষই শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত। সবারই শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আবেগ এবং উদ্বেগ আছে। কিন্তু শিক্ষা নিয়ে এবারও কিছু হলো না।
২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে একটি স্থায়ী জাতীয় শিক্ষা কমিশনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তা বাস্তবায়নের জন্য কোনো সরকারই কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
প্রশ্ন: শিক্ষা সংস্কারে কোনো সরকারই কেনো উদ্যোগ নেয় না?
উত্তর: রাজনীতিবিদরা শিক্ষাকে সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থ থেকে বের করে সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে, জাতির স্বার্থে নিয়ে আসতে চায় নি বা পারেনি। রাজনীতিবিদরা কখনো শিক্ষার বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে একটা সামগ্রিক লক্ষ্য বা পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। তাই আমলারা সেই শুন্যতা পূরণ করেছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে তাই তাদের কথাই প্রধান্য পাচ্ছে। তারা নিজেদের স্বার্থে যেভাবে যা করা দরকার তাই করছেন। আমলারা সাধারণত স্থিতবস্থা বজায় রাখার পক্ষে থাকেন। শিক্ষা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে শিক্ষাবিদদের যথেষ্ট প্রভাব কখনোই ছিল না এবং এখনো নেই।
শিক্ষা কমিশনে ভালো লোকজন চলে এলে তাদের (আমলাদের) কর্তৃত্ব থাকবে না। আবার একটা শিক্ষা কমিশন গঠনের পর সেটাকে যদি রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানো হয়, তাহলে সেই কমিশনও আসলে কাজ করবে না।
অভ্যুত্থানের পর নতুন পরিবেশে নতুনভাবে শিক্ষা নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ ছিল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগানো হয়নি। শিক্ষাকে একটা সামাজিক আন্দোলনে দাঁড় করাতে হবে। ইউনেস্কো ২০২১ সালে ভবিষ্যতে শিক্ষা সংক্রান্ত কমিশনের সুপারিশে এই কথাই বলেছে।
এজন্য সামাজিক চুক্তি দরকার। নাগরিক এবং সরকার ও রাজনীতিক সিদ্ধান্তদাতাদের সঙ্গে এই চুক্তি হতে হবে। তা শিক্ষার দর্শন কী হবে সে সম্বন্ধে নির্দেশনা দেবে।
প্রশ্ন: নতুন বছরে নতুন পাঠ্যবই আসছে। বইগুলোর ইতিহাসের অংশ থেকে কিছু পরিবর্তন-পরিমার্জন ছাড়া অন্য তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের কনটেন্ট ও শিক্ষার কারিকুলাম পরিবর্তনের বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?
উত্তর: কারিকুলাম নিয়ে ঠিকমতো চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে না। রাজনৈতিক ক্ষমতায় কারা থাকবেন, তাদের আদর্শ কী, তারা কীভাবে কারিকুলাম পছন্দ করবেন; এসব চিন্তা করতে হচ্ছে। শিক্ষা একটা রাজনৈতিক ব্যাপার, তা ঠিক। তবে এই রাজনীতি হবে সমাজের এবং শিক্ষার মঙ্গলের রাজনীতি। শিক্ষাকে রাজনৈতিক স্বার্থে, দলীয় সংকীর্ণ স্বার্থে, তাৎক্ষণিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।
কারিকুলামের ব্যাপারে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রধান্য পাওয়া উচিত না। শিক্ষার্থীদের নৈতিক, সামাজিক, মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধি; নতুন প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তোলাই শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
আমাদের কারিকুলামের মূল বিষয়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে খুব বেশি তফাত নেই। শুধু ইতিহাস এবং সমাজবিদ্যার অংশে রাজনৈতিক স্বার্থে কাউকে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
যেমন, কাউকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া বা কাউকে কম গুরুত্ব দেওয়া, এসব মোটেই কাম্য নয়। আসলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার কারিকুলামে সাম্প্রতিক বিষয়গুলোকে টেনে এনে ঘন ঘন পাঠ্যবই পরিবর্ত করার কোনো প্রয়োজন নেই। শিক্ষার্থীদের আসল দক্ষতা বৃদ্ধিতে নজর দিতে হবে।
প্রশ্ন: রাজনীতিবিদরা চাইলেই শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারেন কিনা?
উত্তর: রাষ্ট্রীয় ও উচ্চতম প্রশাসনিক পর্যায়ে শিক্ষার উন্নয়নের রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকতে হবে। শিক্ষার বিষয়ে রাজনৈতিক দায়িত্ব কী হওয়া প্রয়োজন তা নিয়ে ভাবা প্রয়োজন। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর শিক্ষার ক্ষেত্রে চিন্তাভাবনার অস্পষ্টতা রয়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে সেটাকে সামনে না এনে শিক্ষার ক্ষেত্রে সর্বজনীন গ্রহণযোগ্য লক্ষ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের গত দেড় দশকেও আমরা তেমন কিছু দেখিনি এবং তার আগেও একই অবস্থা ছিল।
সামনে যাদের সরকার গঠনের সম্ভাবনা আছে- বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, বাম দলগুলো- শিক্ষার ব্যাপারে তাদের অবস্থানও অস্পষ্ট।
বিএনপির ৩১ দফায় শিক্ষাব্যবস্থার বিষয়ে কিছু গতানুগতিক কথা বলা হয়েছে। জামায়াতের হয়তো ধর্মভিত্তিক কিছু লক্ষ্য থাকতে পারে, তবে স্পষ্ট করে তারাও কিছু বলছে না, আমরা জানি না তাদের পরিকল্পনার বিষয়ে। এনসিপিরও শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো অবস্থান আছে বলে জানি না, ভাসা ভাসা কিছু কথা শুনি। রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান দেখে খুব একটা আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না।
শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষকদের ভূমিকাই প্রধান। তাদের আমরা মর্যাদা দিই না, এটা একটা বড় প্রতিবন্ধকতা। ওপর থেকে পরিপত্র জারি করে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করার চেষ্টা করা হয়। এটা কখনো কার্যকর হয় না।
শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এবং স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। মানসম্পন্ন শিক্ষা দিতে হলে এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। প্রতি কমিউনিটিতে গ্রহণযোগ্য প্রাথমিক, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে। নাহলে সবাই ভালো বলে পরিচিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে ভিড় করছেন। আর অন্য প্রতিষ্ঠানে কেউ যেতে চাইছে না। লটারি করে বিদ্যালয় নির্বাচন, এটা কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।
শিক্ষার অংশীজনদের নিয়ে একতাবদ্ধভাবে একটা অবস্থান তৈরি করা উচিত। আমাদের শিক্ষার দর্শনটা কী হবে, পরবর্তী প্রজন্মকে গঠন করার জন্য কী করা প্রয়োজন, বিষয়গুলো নিয়ে …
প্রশ্ন: প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক পরামর্শক কমিটির প্রধান ছিলেন আপনি। এখন মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক পরামর্শক কমিটিও আপনার নেতৃত্বে কাজ করছে। আমরা শিক্ষার মানোন্নয়নে বড় কোনো পরিবর্তন দেখতে পাবো কিনা?
উত্তর: অভ্যুত্থানের পর সামগ্রিকভাবে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শুধু গত বছর অক্টোবর মাসে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য একটি পরামর্শ কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিকের জন্য এই কমিটি ২০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দেয়। আটটি ক্ষেত্র ধরে শতাধিক সুপারিশ করা হয়। এই ফেব্রুয়ারিতে প্রধান উপদেষ্টা সব শুনলেন। তিনি বললেন, এটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, এটা নিয়ে কিছু করতে হবে। এরপর কয়েকমাস হয়ে গেলো। কিন্তু কোনো সামগ্রিক সংস্কারের উদ্যোগ দেখা গেলো না।
আমলারা নিজেদের মতো করে কিছু সিদ্ধান্ত নেন। সামগ্রিকভাবে না করে বিক্ষিপ্তভাবে করলে সমস্যার সমাধান হবে না। সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে গ্রিন, ইয়েলো, রেড গ্রেডিং করছে মন্ত্রণালয়। এই ধরনের সুপারিশও আমরা করেছি। তবে এর আগে আমরা আরো অনেককিছু করার পরামর্শ দিয়েছিলাম এবং সমস্যাগুলো সামগ্রিকভাবে দেখার কথা বলেছিলাম।
আমরা বলেছিলাম, স্থানীয়ভাবে শিক্ষক-শিক্ষা কর্মকর্তা-অভিভাবক সবার সমন্বয়ে আত্ম পর্যালোচনা বা সেল্ফ অ্যাসেসমেন্টের ব্যবস্থা করতে। এরপর তারা নিজেরা তাদের প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন এবং সরকারের সহযোগিতা চাইবেন। কিন্তু আমলারা এসব কাজ না করে শুধু গ্রেডিংটা ওপর থেকে চাপিয়ে দিলো। মানোন্নয়নের উদ্যোগগুলো না নিয়ে, শুধু গ্রেডিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানগুলো আরো নিরুৎসাহিত করা হতে পারে।
প্রশ্ন: মাধ্যমিকের ব্যাপারে…
উত্তর: প্রাথমিকের পর মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য পরামর্শক কমিটি করা হলো। আমি বলেছিলাম যে, নির্বাচনের পর তো এই সরকার চলে যাবে। এখন সময় কোথায় আর এসব করার। তখন মন্ত্রণালয় থেকে বলা হলো, আমরা যাওয়ার আগে কিছু পরামর্শ তৈরি করে রেখে যেতে চাই। ভবিষ্যতে যারা সরকারে আসবেন, যাতে তারা কাজ করতে পারেন। আমরা এখন তা (মাধ্যমিকের শিক্ষার মানের জন্য সুপারিশ) করছি। কিন্তু এর ফলাফল কী হবে আমরা ঠিক তা বুঝতে পারছি না! আমরা আশা করবো যে, যারাই সরকারের দায়িত্ব আসবেন তারাই শিক্ষাকে গুরুত্ব দেবেন। প্রাথমিকের এবং মাধ্যমিকের জন্য যে পরামর্শগুলো দেওয়া হলো, সেগুলো গুরুত্ব সহকারে সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
প্রশ্ন: সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কে তলানিতে নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় কী?
উত্তর: ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়। দুই পক্ষেরই কিছু দায়িত্ব আছে। সামগ্রিকভাবে শিক্ষার পরিবেশ, প্রশাসনিক কাঠামো, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার নীতি; তারা তাদের কাজগুলো ঠিকমতো করেন কিনা, শিক্ষার স্বার্থ দেখে সব সিদ্ধান্ত নেন কিনা, এটা গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষক সংগঠনে নানা রকম দলাদলি, রাজনৈতিক বিভাজনের সঙ্গে শিক্ষকরা যুক্ত হয়ে গেছেন। তারা রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে গেছেন। শিক্ষকদের মধ্যে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা বিষয়ক চিন্তার অভাব আছে। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক ভালো হবে কী করে! সেই পরিবেশটাই তো নাই। ক্ষুদ্র সংকীর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবে এটা নষ্ট হয়ে গেছে।
ছাত্রদের আচরণ, ঠিকমতো লেখাপড়া করা, এই বিষয়গুলোতে তাদের এবং তাদের অভিভাবকদেরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এটাকে একটা সামাজিক সমস্যা এবং সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে দেখতে হবে।


