কোটি টাকার শিশু পার্ক এখন গরু-ছাগলের চারণভূমি

কোটি টাকার শিশু পার্ক এখন গরু-ছাগলের চারণভূমি
Advertisement
Advertisement

কোটি টাকার শিশু পার্ক এখন গরু-ছাগলের চারণভূমি। দেয়ালেই থেমে গেছে নির্মাণ কাজ। পাঁচ বছর আগে শিশু পার্কটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো দৃশ্যমান হয়নি কোনো অগ্রগতি। এক কোটি ১৩ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে শুধু সীমানা প্রাচীর নির্মাণের পর থেমে যায় প্রকল্পের কাজ। প্রকল্পে দুর্নীতি, অনিয়ম হয়েছে অভিযোগ খোদ জেলা পরিষদ প্রশাসকের।

নদীর শান্ত স্রোত, শীতল বাতাস আর সারিবদ্ধ বিভিন্ন প্রজাতির গাছগাছালি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে উপভোগের জন্য পিরোজপুর সদর উপজেলার বলেশ্বর নদীর তীর ঘেঁষে শহরের মানুষের বিনোদনের জন্য খুমুরিয়া এলাকায় একটি শিশু পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয় জেলা পরিষদ। পাঁচ বছর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকারি পাঁচ একর ৪৬ শতক জমিতে এক কোটি ১৩ লাখ একুশ হাজার নয়শ চব্বিশ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় শুধুমাত্র সীমানা প্রাচীর। পরে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে বালু দিয়ে জমি ভরাটও করা হয়। কিন্তু এরপর আর এগোয়নি প্রকল্পের কাজ।

সাধারণ মানুষ ও শিশুদের বিনোদনের জন্য নির্মিত এ পার্কটি এখন পড়ে আছে অযত্ন আর অবহেলায়। ফলে পার্কটি এখন বখাটেদের আখড়া ও গরু-ছাগলের চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে।‎‎ স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে শিশু পার্কটির নির্মাণকাজ শেষ করা হোক, যাতে শিশু-কিশোরদের জন্য একটি আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র গড়ে ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল শিকদার বলেন, এই পার্কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগে। কিন্তু কাজের উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি আমরা দেখতে পাচ্ছি না। বিগত সময় শুনেছি কোটি টাকার উপরে বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র সীমানা প্রাচীর এবং নাম মাত্র কিছু বালি ফেলা হয়েছে, বাদবাকি টাকা ঠিকাদার হজম করে নিয়েছে। আর এখন এই জায়গাটি রাতে বখাটেদের আখরা এবং দিনে গরু ছাগলের চারণভূমি হিসেবে স্থানীয়রা ব্যবহার করছে। আমাদের দাবি অতি দ্রুত এই পার্কটি চালুর উদ্যোগ নেবে প্রশাসন। যাতে করে এই এলাকার শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষ পার্কে ঘুরতে বা হাঁটতে আসতে পারে।

তবে এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন জানান, বিগত সময় পার্কটি নির্মাণে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে যেটি বর্তমানে দৃশ্যমান। অনিয়মের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ যাচাই-বাছাই চলছে। আর বর্তমানে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে বলেশ্বর নদীর তীরে গড়ে তোলা হবে শিশুদের জন্য একটি দৃষ্টিনন্দন পার্ক।

পার্কটির উন্নয়নে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে দ্রুত প্রকল্পটির কাজ শুরু করে এটি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করবে কর্তৃপক্ষ এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad