ছাত্র আন্দোলন থেকে জাতীয় রাজনীতিতে উত্থান পাওয়া নুরুল হক নুর ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা ও দশমিনা) আসনে জয়ী হওয়ার পর মন্ত্রিসভায় আমন্ত্রণ পেয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনাকালে তার রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে ওঠে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন এবং মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। একসময় তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মুহসীন হল ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন। সে সময় তিনি বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে পরাজিত করে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
২০২১ সালের অক্টোবরে রেজা কিবরিয়াকে আহ্বায়ক করে গণঅধিকার পরিষদ গঠন করেন। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে তিনি দলের সভাপতি হন এবং ২০২৪ সালে দলটি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়।
২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জোটের প্রার্থী হিসেবে ট্রাক প্রতীকে ৭৩ হাজার ৯৩৪ ভোট পেয়ে পটুয়াখালী-৩ আসনে জয়ী হন।
তার রাজনৈতিক জীবনে একাধিক হামলা, গ্রেপ্তার ও মামলার ঘটনা রয়েছে। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে হামলা, ২০২০ ও ২০২১ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা, ২০২৪ সালে কোটা আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের অভিযোগ এবং ২০২৫ সালে কাকরাইলে গুরুতর হামলার পর বিদেশে চিকিৎসা–এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে তিনি আলোচিত ও বিতর্কিত রাজনীতিক হিসেবে পরিচিতি পান।
সবশেষে, ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব থেকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে উত্তরণ–শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।


