রাজশাহীতে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র প্রধানের ভুলে ৪৫২ শিক্ষার্থীর ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে। ক্যারিয়ার এডুকেশন বিষয়ে ৫০ নম্বরের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা হলেও ভুল করে ২৫ নম্বরের ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশ করায় তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসব শিক্ষার্থী ২৫ নম্বর করে কম পেয়েছে।
সোমবার ফলাফল প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা নগরীর লক্ষ্মীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে লক্ষ্মীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় তিনটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেয়। ওই কেন্দ্রের ক্যারিয়ার এডুকেশন বিষয়ের নম্বর সংযোজনের ক্ষেত্রে ভুল হওয়ায় ফলাফল প্রকাশের সময় ৫০ নম্বরের পরিবর্তে ২৫ নম্বরের ভিত্তিতে ফল দেওয়া হয়েছে। এতে ৪৫২ শিক্ষার্থীর ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা তাদের নম্বর প্রত্যাশার তুলনায় কম দেখতে পান। বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন, ক্যারিয়ার এডুকেশন বিষয়ে নম্বর সংযোজনের সময় ভুল হয়েছে। এরপর দুপুরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা লক্ষ্মীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র প্রধান আইরিন জাফরকে অবরুদ্ধ করেন।
এ সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এই ভুলের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এমন ভুলের কারণে শত শত শিক্ষার্থীর এসএসসি ফলাফল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থীর পরবর্তী শিক্ষা ও ভর্তি কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
লক্ষ্মীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র প্রধান আইরিন জাফর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে ভুলের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, অনিচ্ছাকৃতভাবে এই ভুল হয়েছে। ক্যারিয়ার এডুকেশন বিষয়টি নতুন হওয়ায় নম্বর সংযোজনের সময় ভুলটি হয়েছে। অন্য বিষয়গুলোর প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার নম্বর ২৫ হওয়ায় সেই হিসাব ধরে ক্যারিয়ার এডুকেশন বিষয়ের নম্বরও সংযোজন করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি নজরে আসার পর ফলাফল সংশোধনের জন্য শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করা হয়েছে।
পরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবির মুখে কেন্দ্র প্রধান আইরিন জাফর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে যান। তার সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও বোর্ডে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কক্ষে অবস্থান নেন এবং দ্রুত ফলাফল সংশোধনের দাবি জানান।
এ সময় মোবাইল ফোনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শামীম আরা চৌধুরী। তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবিকে যৌক্তিক উল্লেখ করে জানান, ফলাফল সংশোধনের কাজ চলমান রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভুল সংশোধন করে পুনরায় ফলাফল প্রকাশ করা হবে। সোমবারের মধ্যেই সংশোধিত ফলাফল দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলেন, একটি ভুলের কারণে ৪৫২ শিক্ষার্থীর ফলাফলে এমন বিপর্যয় অত্যন্ত দুঃখজনক। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দায়িত্ব নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।


