ইরানের বিরুদ্ধে স্পেনের ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি বিষয়ে পালটাপালটি বক্তব্য দিয়েছে ওয়াশিংটন-মাদ্রিদ। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে স্পেনের মিলিটারি ঘাঁটি ব্যবহার করতে রাজি। তবে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে মানুয়েল আলবারেস তা অস্বীকার করেছেন।
বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, এরমধ্য দিয়েই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে স্পেনের মিলিটারি ঘাঁটি ব্যবহার করার বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটন-মাদ্রিদের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছে।
বুধবার হোয়াইট হাউস জানায়, তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের জন্য স্পেনের ঘাঁটি ব্যবহার করতে রাজি।
অন্যদিকে একইদিন আলবারেস স্পেনের রেডিও স্টেশনে বলেছেন, ‘আমরা হোয়াইট হাউসের বক্তব্যকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, ইরানের ওপর বোমা হামলা এবং আমাদের ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়ে স্পেনের অবস্থান একটুও পরিবর্তন হয়নি।’
গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনকে হুমকি দিয়ে বলেন, স্পেন তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দিলে মাদ্রিদের সঙ্গে ওয়াশিংটন সব বাণিজ্য বন্ধ করতে পারে।
এর একদিন আগে সোমবার আলবারেস জানিয়েছিলেন, জাতিসংঘের চাটারের আওতায় না পড়লে যুক্তরাষ্ট্রকে দক্ষিণ স্পেনের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও বলেন, ‘আমরা এমন কোনো কাজে অংশ নেব না যা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর এবং আমাদের মূল্যবোধের সঙ্গে বৈপরীত্যপূর্ণ।’
‘এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে আরও ব্যয়বহুল সংকট তৈরি করতে পারে। কাজেই স্পেন সরকারের স্পষ্ট অবস্থান যুদ্ধের বিপরীতে। স্পেন কোনো যুদ্ধ চায় না’, যোগ করেন তিনি।
বুধবার সন্ধ্যায় আলবারেস আবার নিশ্চিত করেন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের বিষয়ে স্পেনের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
একদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কারোলিন লিভিট বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বার্তা স্পেনের কাছে পরিষ্কারভাবে পৌঁছেছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করতে রাজি হয়েছে। এটি না হলে স্পেন বাণিজ্য হুমকিতে পড়বে। তারা এই মুহূর্তে সে ঝুঁকি নেবে বলে মনে হচ্ছে না।’
ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন, ‘আমরা চাইলে ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারি। কেউ আমাদের বাধা দিতে পারবে না, আমাদেরও বাধ্যতা নেই।’
মূলত তিনি স্পেনের দক্ষিণে অবস্থিত রোটা ও মোরোন ঘাঁটির কথা উল্লেখ করেছেন। ওই দুই ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্র স্পেনের সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবহার করে, তবে সেগুলো মূলত স্পেনের নিয়ন্ত্রণে থাকে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, স্পেনের ঘাঁটি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছে।
এ দাবির তোয়াক্কা না করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, তারা স্পেনের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে কাজ করবে।
অবশ্য ট্রাম্পের হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মূল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদার’ উল্লেখ করে উদ্বেগ জানিয়েছে স্পেনের প্রধান ব্যবসায়িক সংস্থাগুলো।
গত বছর স্পেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্পের কর নীতির কারণে স্পেনের অর্থনীতি ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


