কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ও সব ওয়ার্ড অফিস প্রাঙ্গণ শতভাগ ধোঁয়াযুক্ত এবং ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্যমুক্ত এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা (উবিনীগ) ও তামাক বিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ)।
একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের খসড়াটি দ্রুত অনুমোদনেরও জোর দাবি জানানো হয়েছে।
বুধবার কুমিল্লা সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময়ে এসব দাবির কথা উঠে আসে। উবিনীগ ও তাবিনাজের পক্ষ থেকে সভায় তুলে ধরা হয় তামাকের ভয়াবহ স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ক্ষতির চিত্র।
মতবিনিময়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উবিনীগের গবেষক হাসানুল হাসিব আল গালিব।
তিনি দেখান, কীভাবে অফিস প্রাঙ্গণে অধূমপায়ীরা পরোক্ষ ধূমপানের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। তুলে ধরেন অফিস প্রাঙ্গণ শতভাগ ধূমপানমুক্ত রাখার যৌক্তিকতা।
২০১৭ সালের একটি পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশে ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন কর্মক্ষেত্রসহ পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। এর ফলে অসংক্রামক রোগের প্রবণতা বাড়ছে। যার মধ্যে রয়েছে ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগ ও স্ট্রোক, অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, শিশুদের নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কাইটিস, গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি, চর্মরোগ ও চুল পড়া।
টোবাক্যো অ্যাটলাস-২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্ক, ইউনিভার্সিটি অব এডিনব্যার্গ এবং লিডস সিটি কাউন্সিলের জনস্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ গবেষয়াণায় দেখা গেছে, ঢাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থীর লালায় নিকোটিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যা পরোক্ষ ধূমপানের ভয়াবহ বিস্তার নির্দেশ করে।
এ পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উবিনীগ ও তাবিনাজ কয়েকটি দাবিও জানায়। যার মধ্যে অন্যতম হলো, শতভাগ ধোঁয়াযুক্ত এবং ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্যমুক্ত ঘোষণা দেওয়া।
এছাড়া ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থানের অনুমোদন না দেওয়ার অফিস আদেশ জারি; অফিস এলাকায় সিগারেটসহ যেকোনো ধরনের তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা এবং সিটি করপোরেশনের বাজেটে তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করা।
মতবিনিময়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শাহ আলম।
তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের অধীন সব অফিস প্রাঙ্গণকে শতভাগ তামাকমুক্ত করতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তামাকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।’
এসময় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাসহ ২৭টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।


